সংসারে অশান্তি, টানা-পোড়েন দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই। কিছুদিন আগেতো প্রতিবেদনও বের হয়েছে প্রতি ঘণ্টাতে একটি করে তালাক হচ্ছে। সংসারে অশান্তি করছে বাবা-মা। এরফলে সন্তানের কি ক্ষতি হচ্ছে তা নিয়ে কি একটাবারো আমরা ভেবে দেখি? কিন্তু এটাতে আমাদের জোর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা: মা-বাবার মধ্যে কলহ ও তাদের বিচ্ছেদের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তানরা। মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, হাঁপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। শুধু তাই নয়, সমাজবিরোধী ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকেও ঝুঁকে পড়তে পারে এসব সন্তান। মা-বাবার ঝগড়া সন্তানকে আগ্রাসী করে তোলে।
নিরাপত্তাহীনতা: ঝগড়াতে একে-অপরের ওপর দোষারোপ চলতেই থাকে। এ আচরণ সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা বিরক্ত হয়। নিজেকে উপেক্ষিত মনে করে। এর ফলে সন্তানের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
কার কাছে যাবে: মায়ের কাছে না বাবার কাছে?—ঝগড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন সন্তানরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। মা-বাবা দুজনই সন্তানের আশ্রয়। কিন্তু তখন সন্তান আশ্রয়হীনতা অনুভব করে। ওই সময় তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। তারা বুঝে উঠতে পারে না, দোষ কার। কার কাছে যাবে, এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে।
ভবিষ্যৎ কেমন: সন্তানরা প্রাথমিক আদবকেতা শেখে তাদের পরিবার থেকে। আর যখন পরিবারটি ভেঙে যায়, তখন তাদের ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়ায় অনিশ্চিত। মা-বাবার দ্বন্দ্বের কারণে সন্তানরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে ভয় পায়। বিয়ে, বাচ্চা, এমনকী তাদের একটি পরিবার হবে- এমনটাও ভাবতে পারে না।
পরামর্শে সন্তানদের না নেওয়া: মা-বাবা যখন কোনো কাউন্সিলর বা পরামর্শক অথবা আত্মীয়র কাছেও যান, তখন বাচ্চাদের সঙ্গে নেওয়া ঠিক নয়। কেননা এমন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে সন্তানের মনে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
পরিস্থিতি সামলানো: সম্পর্কে টানাপড়েন থাকবে, এটা স্বাভাবিক। তবে একে সুন্দর করে সামলাতে জানা বেশি জরুরি। মা-বাবার একে-অপরের ব্যবহার দেখে সন্তানরা আচরণ শেখে। তাই তাদের সামনে পরিমার্জিত আচরণ প্রয়োজন।

0 comments: