Wednesday, October 24, 2018

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ 2nd ওয়ানডে লাইভ

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ 2nd ওয়ানডে লাইভ

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ইন্ডিয়া টস এ জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

খেলা লাইভ দেখতে ক্লিক করুন নিচের লিংকটিতে

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ 2nd ওয়ানডে লাইভ


Sunday, October 21, 2018

Monday, October 15, 2018

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়


বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে পাগলা মসজিদ। এই মসজিদের দান বাক্সে সোয়া এক কোটির বেশি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বিদেশী মুদ্রা দান করেছে মানুষ।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন এই মসজিদ অনেক পুরনো। এবং মানুষ বিশ্বাস করেন যে এখানে ইবাদত বন্দেগী করলে সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া রোগ-শোক নিরাময়ের জন্য প্রতিনিয়ত এখানে মানুষ দান খয়রাত করতে থাকে।
এই মসজিদে মোট ৫ টি দান বাক্স রয়েছে। প্রতি চার মাস পর পর এই দান বাক্স খোলা হয়। এবার চার মাস পর শনিবার এই দান বাক্স বা সিন্দুক গুলো খুললে দেখা যায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ।
আগের রেকর্ড ছাপিয়ে টাকা পাওয়া গেছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১টাকা। এছাড়া রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।
এই মসজিদের কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। তাঁর কাছেই প্রশ্ন করেছিলাম এই বিপুল পরিমাণের অর্থ কীভাবে খরচ করা হয়?
তিন বলছিলেন মূলত এই অর্থ মসজিদের বিভিন্ন কাজের যে খরচ সেখানে ব্যয় করা হয়। এছাড়া অন্যান্য মসজিদে পাঠানো হয়, এতিমখানা গুলোতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক তাফসিলুল আজিজ বলছিলেন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়।
প্রতিদিন জেলার বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁদের মনের আশা পূরণের জন্য মসজিদটির দানবাক্সগুলোতে টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলছিলেন এই বিপুল পরিমাণ টাকা বাংলাদেশের মধ্যে শুধু মাত্র এই মসজিদের দান বাক্স থেকেই সংগ্রহ করা হয়।
তিনি আরো বলছিলেন এই অর্থ গণনার সময় মসজিদ কমিটির লোক ছাড়াও টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের জেষ্ঠ্য নির্বাহী হাকিম আবু তাহের মো. সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছিলেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
রাস্তার মাঝে হলুদ-সাদা দাগ কেন থাকে?

রাস্তার মাঝে হলুদ-সাদা দাগ কেন থাকে?


কখন হাইওয়ে রাস্তায় আবার কখনও বা আমাদের হাঁটার রাস্তাতেই দেখা যায় মাঝ বরাবর একটি সাদা দাগ চলে গেছে। অথবা হলুদ দাগও দেখা যায়। তবে হাইওয়েতে সাধারণত সাদা দাগটাই দেখা  যায়। তবে কেন এই দাগ, সেটা হয়ত আমরা অনেকেই জানিনা। 

এক কথায়, আপনি কোথায় ওভারটেক করতে পারবেন, আর কোথায় পারবেন না, তা এই লাইনেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙা ভাঙা সাদা লাইন যদি দেখেন, তার অর্থ, ওই রাস্তায় আপনি লেন বদলাতে পারেন, কিন্তু, তা সাবধানে, সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

আর রাস্তায় টানা হলুদ লাইনের অর্থ, আপনাকে ওই রাস্তায় ওভারটেক করার অনুমতি রয়েছে৷ কিন্তু, হলুদ লাইন ক্রস করে বেরোতে পারবেন না। আর যদি সেটাই দুটো হলুদ লাইন পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে যায়, তার অর্থ আপনি কোনও ভাবেই লাইনের বাইরে বেরোতে পারবেন না৷ এই তথ্য জানার পর এবার আরও সচেতন হয়ে যান৷ যাতে কোনও ভাবেই আর এই ভুলটা না হয়। 

Sunday, October 14, 2018

ক্রিকেট একটা ‘বাজে খেলা’!

ক্রিকেট একটা ‘বাজে খেলা’!

সুজি বেটস। ছবি: টুইটার

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্রিকেটকে ‘বাজে খেলা’ বললেন নিউজিল্যান্ড নারী দলের ব্যাটসম্যান সুজি বেটস



মার্কাস ট্রেসকোথিককে মনে আছে? সাবেক এই ইংলিশ ওপেনারের সৌজন্যে ক্রিকেট–বিশ্ব বেশ আগেই জেনেছে মানসিক অবসাদ ক্রিকেটারদের একটি রোগ। সেটি বেশ ভয়াবহ। ট্রেসকোথিক, জোনাথন ট্রটরা এই অবসাদে ভুগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন। তখন ব্যাপারটা ঢাকঢাক গুড়গুড় করে বাজলেও কেউ সেভাবে মুখ খোলেনি। ক্রিকেট খেলাটা মনের ওপর কতটা চাপ বিস্তার করে তা সবাই জানলেও প্রকাশ্যে আসেনি। সুজি বেটস ঠিক সেই কাজটাই করলেন। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে নিউজিল্যান্ডের এই ক্রিকেটার সোজাসাপ্টা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিচারে ক্রিকেট সবচেয়ে বাজে খেলাগুলোর একটি।
বুধবার ছিল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিনটি উপজীব্য করে নিউজিল্যান্ডের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়কের সাক্ষাৎকার নিয়েছে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম। সেই সাক্ষাৎকারে বেটসের মন্তব্য, এটা সম্ভবত সবচেয়ে বাজে খেলা—সেটি মানসিক স্বাস্থ্য বিচারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেটসের ক্যারিয়ার প্রায় এক যুগের। বোঝাই যাচ্ছে, কতটা ধকল পোহালে এমন কথা বলা যায়। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দীর্ঘদিনের সফর, সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের চাপ, মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে নানা কৌশল আর সমীকরণ—এসব ব্যাপারই মূলত ভীষণ চাপ সৃষ্টি করে থাকে ক্রিকেটারের মনে।
মেয়েদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাটসম্যান তাই মনে করেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে শারীরিক দক্ষতার চেয়ে মানসিক দক্ষতার বেশি প্রয়োজন। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে আসার পর শারীরিক দক্ষতার চেয়ে মানসিক দক্ষতাটা বেশি কাজে লাগে। অনেক কিছুর সঙ্গে লড়তে হয়, বিশেষ করে দল যখন খারাপ করছে—বলেন বেটস। মেয়েদের ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার সঙ্গে মানসিক দক্ষতার প্রয়োজনও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। মেয়েদের ক্রিকেট এখন আরও পেশাদার, আরও বেশি ব্যস্ত সূচি—কারণ বিশ্বের নানা জায়গায় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলছে।
বেটস সাম্প্রতিক চাপটাই তুলে ধরলেন, ‘মেয়েদের ক্রিকেটে আগে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ভাবত না। খেলার জন্য তিন-চার সপ্তাহ বাইরে থাকলেও ঘরে ফিরে পরিবারকে সময় দেওয়া যেত। কিন্তু এখন সফর শেষে আপনাকে ঘরে ফিরতে হচ্ছে আবারও অনুশীলনে নামার জন্য।’

Wednesday, October 10, 2018

বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন


ঐতিহাসিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দুপুরে জনাকীর্ন আদালতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর বাকি ১১ আসামিকে নানা মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের কাশিমপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়। এর পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় অস্থায়ী আদালতের গারদে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন ও তিন শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।
এরপরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১৮ জন, তারা হলেন- তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, এটিএম আমিন, সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, খান সাঈদ হাসান, ওবায়দুর রহমান, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল বাবু, মোহাম্মদ হানিফ, আবদুল মালেক, শওকত হোসেন, মাওলানা তাজউদ্দিন, ইকবাল হোসেন, মাওলানা আবু বকর, খলিলুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম।
ওসমান ও হিরু নৌমন্ত্রীর অনুসারী, তারা চান না চালকরা প্রশিক্ষিত হোক: ইলিয়াস কাঞ্চন

ওসমান ও হিরু নৌমন্ত্রীর অনুসারী, তারা চান না চালকরা প্রশিক্ষিত হোক: ইলিয়াস কাঞ্চন


ইলিয়াস কাঞ্চন নায়ক হিসেবে সুপরিচিত হলেও, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছেন অনেক বছর ধরে। প্রায়ই তাকে পরিবহন মালিক- শ্রমিকদের রোষানলে পড়তে হয়। সম্প্রতি তাকে বাস টর্মিনালগুলোতে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
দেশের সব বাস টার্মিনাল থেকে আপনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। কারা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: গত রোববার ফুলবাড়িয়াতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ একটি সমাবেশ করেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, একই সংগঠনের সহ-সভাপতি ছাদেকুর রহমান হিরুসহ পরিবহন খাতের অন্যান্য নেতারা। হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশ থেকেই আমাকে অবাঞ্ছিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আপনাকে কেন অবাঞ্ছিত করা হল?
ইলিয়াস কাঞ্চন: চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমরা তাদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার চিন্তা করেছিলাম। সেই কারণে অনেকগুলো টার্মিনালের পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে, সামনে ২২ অক্টোবর আমরা চালকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে চাই। তারা বলেছিলেন অনুমতির ব্যাপারে আমাকে জানাবেন। কিন্তু তা না করেই তারা আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেন।
ওসমান আলী ও ছাদেকুর রহমান হিরু নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের অনুসারী। তারা কেউই চান না যে চালকরা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হোক। তারা যেটা চান তা হল- যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলুক। চালকরা দুর্ঘটনা ঘটাবে, এদের কোনো বিচার করা যাবে না।
কারণ পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা দেখেছেন যে, আইন নিয়ে কথাবার্তা যা কিছু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমিই একমাত্র মুখ খুলেছি। সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আমিই বসেছি। সেই কারণে পরিবহন সেক্টরে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা আমাকে সমস্যা হিসেবে মনে করছেন।
যারা সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করছেন, তারা ভালো করেই জানেন যে- তাদের জন্যই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোকে তারাই রাস্তাঘাটে নামিয়েছেন। তাদের ব্যবস্থাপনা অদক্ষ। চালকদের দক্ষতা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দুর্ঘটনা রোধে নেতারা চালকদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ না করে, আইন যেন তাদের ওপর প্রয়োগ না হয় সেটিই চাইছেন। কেউ অন্যায় করবে কিন্তু শাস্তি পাবে না- পৃথিবীর কোথাও বোধহয় এমন নিয়ম নেই।
পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের এই ঘোষণা আপনাকে বিচলিত করে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: এ রকম হুমকি এটিই প্রথম নয়। স্কুলের বাচ্চাদের আন্দোলনের সময়ও ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও খুলনায় আমার ছবি পুড়িয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ২০১২ সালেও শহীদ মিনারে বিশাল সমাবেশ ডেকে আমার ছবিতে জুতার মালা পরিয়েছিল তারা। পরে ছবিতে আগুনও দিয়েছে। এতে কী আসে যায়। আমি ভীত বা বিচলিত কোনোটাই নই। আমার কাজ আমি করে যাবই।
আমি তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করছি না। আমি কাজ করছি সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে এবং তা কিভাবে রোধ করা যায় সেজন্য। সে কারণে যেখানে আইনের কথা বলা দরকার, আমি বলছি। কারণ আইন ছাড়া তো সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।
আপনি ও আপনার পরিচালিত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) তো বাসচালক ও সহযোগীদের সচেতনতায় কাজ করছে, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের এমন কথার কারণে কি আপনাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমরা এসব হুমকিতে ভয় পাই না। এতে আমাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। নিসচা আগের মতোই তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এখন পরিষদের নেতারা যদি চালকদের প্রশিক্ষিত করতে না চান, তাহলে আমাদের একটি উদ্যোগ হয়তো বাধাপ্রাপ্ত হবে। শুধু চালকদের প্রশিক্ষণটিই মুখ্য নয়, পথচারী, যাত্রী, সাধারণ মানুষ এবং সরকার সবাইকে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। চালকেরা যদি প্রশিক্ষিত হতে না চান, বিরোধিতা করেন, তাহলে আমরা বাকি জায়গাগুলোতে কাজ করব।
সম্প্রতি পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের জন্য সাত দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমার মনে হয়েছে, এ ব্যাপারে আমার চেয়ে বেশি চিন্তিত থাকা উচিত সরকারের। সরকারের মধ্য থেকেই তারা আমাকে অবাঞ্ছিত করেছে। সরকারের মধ্যে যারা আছেন, তাদের যে ফেডারেশন, তারাই এই কাজগুলো করছেন। সরকার এই ধরনের লোককে মন্ত্রিপরিষদে রাখে কারণ তারা সরকারকে বোঝাচ্ছে তারা নাকি দুই কোটি ভোটার, কিন্তু বাকি আট কোটি ভোটার তো বাকি থাকল। তাহলে এই আট কোটি ভোটারের কথা চিন্তা করবে সরকার, নাকি তথাকথিত দুই কোটি ভোটারের কথা ভাববে সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত।
সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের জন্য সরকারকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। অন্যথায় ১৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আপনার কি মনে হয় আইনটি সংশোধন করা উচিত সরকারের?
ইলিয়াস কাঞ্চন: পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সবসময় তাই করে আসছে। এরা সরকারের দুর্বল মুহূর্তগুলোতে আঘাত করে করে দাবি আদায় করে নিচ্ছে। ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান ছিল। এরশাদ সরকারের পতনের সময়েও এই পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আন্দোলন করে তিন বছরের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইনটি পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। যখনই নির্বাচন ঘনিয়ে আসে তখনই পরিষদ সংশ্লিষ্টরা আন্দোলনে নেমে তাদের দাবি আদায় করে নেয়।
অথচ তারা নিজেরা দক্ষ হয় না। দুর্ঘটনা যাতে কমে, সড়কে যাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, মানুষ যাতে স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে এমন সেবা দেওয়ার পক্ষে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই।
রাষ্ট্রপতি যেহেতু আইনটি এখনও অনুমোদন দিয়ে সই করেননি, সেক্ষেত্রে একটি খটকা থেকেই যায়। এখন সরকার আইনটি বাস্তবায়ন করবে, না পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংশোধন করবে তা সরকারের ব্যাপার।

Tuesday, October 9, 2018

রাত জেগে কাজ করলে কী খাবেন?

রাত জেগে কাজ করলে কী খাবেন?

রাত জেগে কাজ করলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ছবি: রয়টার্স

অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন। অনেক কর্মীকে অফিসে রাতের পালায় কাজ করতে হয়। তবে শরীরের জন্য সহায়ক হলো দিনে কাজ আর রাতে ঘুম। তাই রাতের কাজ শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ জন্য যাঁরা রাত জেগে কাজ করেন, ঘুম ও খাবারের দিক দিয়ে তাঁদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদের ভাষ্য, ‘আমাদের সারা দিনের ক্যালরিকে ভাগাভাগি করতে হবে। ধরুন, একজন মানুষ যদি রাতে খাওয়ার পর তিন ঘণ্টা পার হওয়ার আগে ঘুমিয়ে পড়েন, তাহলে তাঁর খাবার হচ্ছে ছয়বার। ছয়বার তিনি যে খাবার খাচ্ছেন, যদি অনেক রাত পর্যন্ত জাগতে হয়, তাহলে সেটাকেই আট ভাগে ভাগ করতে হবে! সারা দিনের ক্যালরি ভাগ করে খেলে কিছুতেই আর ওজন বাড়বে না। তবে তাতে কমবেও না।’
এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যাঁরা রাত জেগে কাজ করেন, তাঁদের জন্য আয়ুর্বেদশাস্ত্রে স্বাস্থ্যকর কিছু পরামর্শ রয়েছে।
ফাইবার ও প্রোটিন: সাধারণত দিন শুরু হয় নাশতা দিয়ে। কিন্তু যাঁরা রাতের পালায় কাজ করেন, তাঁদের দিন শুরু হয় রাতের খাবার দিয়ে। যাঁদের দিন সন্ধ্যা সাতটা বা এর পর শুরু হবে, তবে রাতের খাবার সাড়ে সাতটা বা আটটার মধ্যে সেরে নিতে পারে। যাঁরা বিকেল চারটা বা পাঁচটায় দিন শুরু করেন এবং রাত একটা বা দুইটা পর্যন্ত কাজ করেন, তাঁদেরও রাত আটটার মধ্যে খাবার খেয়ে ফেলা উচিত। খাবারের পর অনেকের ঘুম আসে। এ জন্য রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা খাওয়া ভালো। খাবারে বাদামি চালের ভাত ও সবজি, ডাল ও মুরগি রাখা যেতে পারে। রাতের খাবারে যেন যথেষ্ট প্রোটিন ও ফাইবার থাকে, তা খেয়াল রাখতে হবে। প্রোটিন খেলে পেট ভরা থাকবে এবং ঘুমের ভাব আসবে না।
ঘি: আয়ুর্বেদশাস্ত্রে বলা হয়েছে, রাত জাগলে শরীরে শুষ্ক ভাব দেখা দেয়। কাজে যাওয়ার আগে এক চামচ ঘি খেতে পারেন। এতে শরীরের শুষ্ক ভাব আসবে না এবং শরীরে ভারসাম্য ঠিক থাকবে। তবে কোলেস্টেরলের বিষয়টি যাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাঁদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
তেলজাতীয় খাবারে না: রাতে তেলযুক্ত ভাজাপোড়া কোনো খাবার খেলে হজমে সমস্যা হবে এবং ওজন বাড়বে। রাত জাগলে অস্বাস্থ্যকর খাবারে অম্লতা ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বাদাম খান: রাত জাগলে ক্ষুধা লাগতে পারে। যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন হালকা নাশতা হিসেবে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন। এ সময় আখরোট বা বাদাম খেতে পারেন। এতে ওজন বাড়বে না।
ক্যাফেইন থেকে দূরে থাকুন: অনেকেই রাতে কাজ করার সময় বেশি কফি খান। বেশি মাত্রায় কফি শরীরের জন্য ভালো নয়। যদি বেশি ঘুম আসে এবং কাজের জড়তা লাগে, তবে শরীর আর্দ্র রাখতে হবে। প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর পানি বা ফলের জুস খেতে পারেন।
সতেজ ফল ও সবজি: যাঁরা রাতে কাজ করেন, তাঁদের প্রচুর সতেজ ফল ও সবজি খেতে হবে। খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল ও ফলের জুস রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সালাদ, শুকনো বাদাম, হোলগ্রেইন ব্রেড, সবজি ও ডিমসেদ্ধ সালাদ দারুণ উপকারী।
ঐশ্বরিয়ার নায়ক উইল স্মিথ!

ঐশ্বরিয়ার নায়ক উইল স্মিথ!

ঐশ্বরিয়ার নায়ক উইল স্মিথ!
ধরা যাক আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়েছেন উইল স্মিথ। সেটা থেকে বেরিয়ে আসা দৈত্যকে তিনটি ইচ্ছার কথা বলতে হবে তাঁকে। কী হবে সেই তিন ইচ্ছা? অন্য দুটির কথা বাদ। তৃতীয় ইচ্ছাটি হচ্ছে, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নায়ক হতে চাইবেন তিনি।
গত শনিবার নিজের এই বিশেষ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথ। তিনি বলেন, ‘বলিউড ছবির একটি নাচের দৃশ্যে অভিনয়ের ইচ্ছে আছে। ১৫ বছর আগে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। আমরা একসঙ্গে কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। তাঁর সঙ্গে একটা ছবি করার ইচ্ছে ছিল।’
সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসের লিডারশিপ সামিটে পরিচালক ফারহান আখতারের সঙ্গে একটি আলোচনা পর্বে অংশ নেন উইল স্মিথ।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে ৫০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন অভিনেতা উইল স্মিথ। ‘আলী’, ‘পারসুট অব হ্যাপিনেস’, ‘ইনডিপেনডেন্স ডে’, ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’ ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ ছবিগুলো তাঁকে দিয়েছে পরিচিতি ও খ্যাতি। বিশেষ করে ২০০১ সালে বক্সার মোহাম্মদ আলীর জীবনীভিত্তিক ছবি ‘আলী’ তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এ ছবিটি তাঁকে শিল্পীতে পরিণত করেছে। উইল স্মিথের মতে, ‘এ ছবিটি আমাকে বদলে দিয়েছে।’
মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একটি স্মৃতির কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে বসে ছবিটি দেখার সময় আমি তাঁর পেছনে ছিলাম। প্রথম এক ঘণ্টা তিনি নড়েননি। মনে করেছিলাম, ছবিটা বুঝি তাঁর পছন্দ হয়নি। একটি দৃশ্য ছিল, আমি চিৎকার করে তাঁর স্ত্রীকে বলছি, “আমি কি উন্মাদ?” তিনি পেছনে ঘুরে আমাকে বলেছিলেন, “দারুণ একটা কাজ দেখিয়েছেন!”’
অভিনয় শুরু করার আগে হিপ-হপ গান করতেন উইল স্মিথ। অভিনেতা হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না তাঁর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংগীত থেকে চলচ্চিত্রে চলে আসাটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। রাজস্ব বিভাগ আমার সবকিছু কেড়ে নেয়, আমাকে চলে যেতে হয় লস অ্যাঞ্জেলেসে। ফিলাডেলফিয়া থেকে আমি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। অ্যালবামটি ফ্লপ হয়, লাখ লাখ ডলার ক্ষতির মুখে পড়ি।’
উইল স্মিথ জানান, শৈশব ভীষণ দুঃসহ ছিল তাঁর। তিনি চাননি তাঁর সন্তানকেও সে রকম একটি জীবনের মুখোমুখি হতে হোক। তিনি বলেন, ‘যেমনটি চেয়েছিলাম, আমার শৈশব সে রকম ছিল না। বেড়ে উঠতে আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। সে জন্যই নিজের ছেলের ক্ষেত্রে আমার চাওয়াটা ছিল ভিন্ন। আমাদের সব সময়ের প্রত্যাশা ছিল একটা সুখী পরিবার।’
ছেলে জ্যাডেন অভিনীত ২০১০ সালের ছবি ‘দ্য কারাতে কিড’ নিয়ে উইল স্মিথ গর্বিত। তিনি মনে করেন, জীবনে তাঁর যত অর্জন, এসবের পেছনে রয়েছে তাঁর পরিবার। ডেকান ক্রনিকল

Monday, October 8, 2018

সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করেছে মায়ানমার!

সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করেছে মায়ানমার!

সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করেছে মায়ানমার!

সেন্টমার্টিনের পর এবার সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করলো মায়ানমার। গতকাল মায়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটে সালমান মুক্তাদিরের ছবি দিয়ে বলা হয়, সালমান মুক্তাদির একজন রাখাইন। সে গতবছর রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের সাথে লুকিয়ে বাংলাদেশ ঘুরতে যায়। তারপর আর বাংলাদেশে ফেরত আসেনি। এ ব্যপারে সালমানের সাথে যোগাযোগ করলে, সালমান লজ্জায় জেসিয়ার কোলে লুটিয়ে পড়েন …
সালমান আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনো এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে সালমানকে মায়ানমারে পাঠানোর ব্যাপারে জনগনকে বেশ খুশি হতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উদ্ভাবন!

পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উদ্ভাবন!

পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উদ্ভাবক তৌহিদুল ইসলাম।
প্রকৃতির জন্য পলিথিন একটি বড় ধরনের হুমকি, কারণ তা মাটিতে মেশে না। সেই অপচনশীল পরিত্যক্ত পলিথিনকে পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার অভূতপূর্ব এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন জামালপুরের তৌহিদুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের গবেষণায় পলিথিন ধ্বংসের পাশাপাশি তা থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উৎপাদনের কৌশল আবিষ্কার করে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন তিনি।
তৌহিদুলের বানানো বিশেষ একটি চেম্বারে পলিথিন ঢুকিয়ে উচ্চমাত্রার তাপে গলানো হয়। পরে সেটি থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে আলাদা করা হয় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি। পলিথিন ধ্বংসের বিশেষ এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ এরই মধ্যে তৌহিদুল সরকার এটুআই প্রকল্প আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন দেশসেরা উদ্ভাবকের খেতাব। জাতীয় পরিবেশ পদক ছাড়াও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন স্বর্ণপদক।

তৌহিদুল চান তাঁর এই উদ্ভাবন দেশের কাজে লাগুক। নিজের উদ্ভাবন সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে জ্বালানিসমৃদ্ধ ও দূষণমুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
তৌহিদুল বলেন, ‘পলিথিন পুড়লে সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা পরিবেশের জন্য বড় একটা ক্ষতি। আর এটাকে মাটিতে পুঁতে দিলেও পচে না। এখান থেকে আমার পলিথিনটাকে পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কারের চেষ্টা করি।’ নিজের উদ্ভাবনের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে এভাবেই বলেন তৌহিদুল।
নিজের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তরুণ এই উদ্ভাবক বলেন, ‘আমার এই মেশিনটাকে যদি আমি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে হয়তো বাংলাদেশে পলিথিনের যে একটি হুমকি, সেই হুমকি থেকে মুক্ত হয়ে আমরা পলিথিনটাকে একটা সম্পদে পরিণত করতে পারব।’
তৌহিদুলের অসাধারণ এ উদ্ভাবনে খুশি তাঁর জেলা জামালপুরের মানুষ। তাঁরা আশা করছেন, তৌহিদুলের এ উদ্ভাবন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সরকার সহায়তার হাত বাড়াবেন।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা জামালপুরবাসী গর্বিত, আনন্দিত। আমরা সরকারের কাছে দাবি করব, যাতে এ প্রজেক্ট—পলিথিন থেকে তেল উৎপাদন, এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাহলে দেশবাসী উপকৃত হবে।’  
এদিকে এর মাঝেই তৌহিদুলের নতুন এই উদ্ভাবন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মির্জা আজম ও প্রধানমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটা আরো কীভাবে বড় করা যায়, কীভাবে জামালপুরের সব পলিথিনকে এখানে এনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে, পরিবেশসম্মতভাবে এটাকে ডিসপোজাল করা যায়, সে ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তাসহ দেশব্যাপী এর সুফল ছড়িয়ে দিতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

Tuesday, September 25, 2018

A Broken Dream সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (৩য় পর্ব)

A Broken Dream সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (৩য় পর্ব)

A Broken Dream - Justice S K Sinha

অধ্যায়: দুই

জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার লড়াই

মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পর পরই আমি দ্বিতীয় শ্রেণীতে সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে এল এল বি পরীক্ষা পাস করি। আইন পড়ার কারনে আমার বাবা আমাকে সম্পূর্ণ রুপে ত্যাজ্য করেন এবং বলেন যে আমি আইন পেশায় যুক্ত হলে তাঁর  সন্তানের পরিচয় দিতে পারব না। আইন পাশ করার পরে আমি এমনিতেই অনেক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। প্রথমত, সিলেটে আমার কোন থাকার জায়গা ছিল না; দ্বিতীয়ত, তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল; তৃতীয়ত, পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া আইন পেশা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব; এবং সবশেষে, একজন ভাল আইনজীবী হবার পূর্বশর্ত হলো অন্য একজন ভাল পসারের বয়োজ্যাষ্ঠ আইনজীবীর চেম্বারে যোগ দেয়া। এ সব কিছুর জন্য সাহায্য-সহযোগিতা দরকার এব এর কোনটাই আমার ছিল না। তখনকার সময়ে  আমার সব বন্ধু-বান্ধব আইন পাশ করার পরে টিকে থাকার জন্য স্থানীয় মহকুমা বারে যোগদান করে।  কিন্তু আমি সিলেটে থাকার সিদ্ধান্ত নেই কারন একজন ভাল আইনজীবী হতে হলে আমাকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জেলা আদালতে থাকতে হবে। আমি তখন সিলেটের কোন ভাল আইনজীবীকে চিনতাম না। শুধু ছাত্র হিসেবে কিছু সিনিয়র আইনজীবীকে চিনতাম। সে সময় সব আইনজীবীর চেম্বার রাত বারোটা পর্যন্ত খোলা থাকত। নতুন পাশ করা কাউকে ভাল আইনজীবী হতে হলে তাকে  কোন  একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীর চেম্বারে লেগে থেকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। আমিও তাই কোন একজন ভাল আইনজীবীর সাথে যোগ দিয়ে প্রমান করতে চাচ্ছিলাম যে আইনজীবী মানেই মিথ্যুক নয়,  ভাল আইনজীবী হলে তারা সমাজে একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে গন্য হন।
বন্ধুদের সাথে আলাপ করে আমি বিখ্যাত ফৌজদারী আইনজীবী এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত সম্মানিত উকিল সোলেমান রাজা চৌধুরীর চেম্বারে যোগ দিব বলে মনস্থির করলাম। সিলেট ল কলেজে তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। এক বুক আশা নিয়ে, সাহস সঞ্চয় করে একদিন সন্ধ্যায় আমি চৌধুরীর চেম্বারে গেলাম। সেখানে আমি কিছু মক্কেল এবং তার সহকারী মুনিরুদ্দিন আহমেদকে দেখতে পেলাম। আমাকে দেখে চৌধুরী আমার আসার কারন জানতে চাইলেন, আমি খুব বিনয়ের সাথে তাঁর কাছে আমার মনের ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। কোন রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়া আমি তাঁকে বললাম যে, আমি যে জাতি থেকে উঠে এসেছি তার নাম বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, তারা খুব সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ, বেশিরভাগই কৃষিকাজ বা শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করে। এদের জীবন-যাত্রা খুবই সহজ এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী যেমন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের তুলনায় এরা গরীব।  এমনকী কোটার কারনে আদিবাসী পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর মানুষেরাও সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও সরকারী চাকরিতে ঢুকতে পারে, সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব আছে, তাদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদারও অধিকারী হন। অপর দিকে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের জন্য মন্ত্রী পদমর্যাদা তো দূরের কথা সংসদেও কোন প্রতিনিধি নেই, সমারিক বাহিনী, পুলিশ বা সিভিল প্রশাসনে কোন অফিসার নেই। অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্যায়নে মুসলিম এবং হিন্দুদের সাথে তুলনায় তাদেরকে তাই নীচু জাতের বলে গন্য করা হয়। এডভোকেট চৌধুরী আমাকে সরাসরি বলে দিলেন যে তিনি আমাকে তার জুনিয়র হিসেবে রাখতে পারবেন না, অন্য কোন সিনিয়র আইনজীবীর সাথে যোগ দেবার পরামর্শ দিলেন। আমি এতে খুব মুষড়ে পড়ি কিন্তু মানসিকভাবে পজিটিভ থাকার চেষ্টা করি। আমার সাথে কথা শেষ করে তিনি তখন আবার কাজে মনোযোগ দিলেন, আমি তাঁকে আর কিছু না বলে সেখানেই মাথা নীচু করে বসে থাকি। তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও  আমি তার সাথে কাজ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম তাই ইতোমধ্যে চেম্বারে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবার প্রক্রিয়ায় যে কোন ধরনের অপমান সহ্য করে নিব বলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নিয়েছি। কিছু সময় পরে আমি লক্ষ্য করলাম তার চাপরাশি এসে তাকে ড্রয়িং রুমে যেতে ইশারা করছে। তারপরে দেখলাম চৌধুরী তার সহকারী মুনিরুদ্দিনকে সাথে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে গেলেন। ড্রয়িং রুমটা ছিল তার চেম্বারের উত্তর পাশে, চেম্বার আর ড্রয়িং রুমের মাঝে আরেকটা রুম ছিল। আমি বুঝতে পারলাম তারা সেখানে চা পান করছেন। আমাকে তারা চায়ের জন্য বলেনি যদিও আমি এক সময় তার ছাত্র ছিলাম। আমি অপমানিত বোধ করছিলাম কিন্তু সেটা প্রকাশ করিনি।
পরদিন থেকে আমি নিয়মিত চেম্বারে যেতে শুরু করলাম। চৌধুরী আমাকে না দেখার ভান করলেন আর তার সহকারী আমার সাথে কথা বলত না। আমি মুনিরুদ্দিনের পাশে একটা চেয়ারে বসতাম।  কোন কোন সময় একসাথে বেশি মক্কেল আসলে চৌধুরী আমাকে সরে পেছনের বেঞ্চে মক্কেলদের চেয়ারে বসতে বলত। এতসব অবহেলা অপমান সত্ত্বেও আমি মাসের পর মাস চৌধুরীর চেম্বারে নিয়মিত যেতে থাকলাম।  আমার বিশ্বাস ছিল যদি একবার তাঁর কাছ থেকে মামলার খসড়ার জন্য শ্রুতিলিখন নেবার সুযোগ পাই তাহলে চৌধুরী আমাকে তাঁর সহযোগী হিসেবে নিতে বাধ্য হবেন। মুনিরুদ্দিনের হাতের লেখা এবং ডিক্টেশান নেবার ধরন দেখে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমি মুনিরুদ্দিনের চেয়ে অনেক ভাল এবং সেটা জানতে পারলে চৌধুরী জুনিয়র হিসেবে আমাকেই প্রাধান্য দিবেন।  সোলেমান চৌধুরী ডান হাতে লিখতে পারতেন না, একটা একসিডেন্টের পর থেকে তার এ সমস্যা দেখা দেয় যার কারনে তিনি বাম হাতে সই করতেন। এদিকে প্রায় রুটিনের মত চৌধুরী আমাকে বাদ দিয়ে চা পান করতেন, কিন্তু তার আচরণে আমি মন খারাপ করতাম না, কারন তার সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল।

শেষ পর্যন্ত এক ঝড়ের রাতে আমার ধৈর্য্য এবং লেগে থাকা স্বার্থক হয়। সেদিন ঝড়-বৃষ্টির মধ্য দিয়ে চেম্বার আসার সময়ে আমি ভিজে সপসপে হয়ে পড়েছিলাম। এ সময় দরজা-জানালা বন্ধ ছিল তারপরেও আমি বারান্দায় অপেক্ষা করেছি। এক সময় আমি দরজার বেল টিপলে চাকর ছেলে এসে দরজা খুলে দেয়। চেম্বারে ঢুকে আমি ফ্যানের বাতাসে আমার জামা শুকাতে চেষ্টা করলাম। কিছু সময় পরে কয়েকজন মক্কেল আসল কিন্তু সে সন্ধ্যায় মুনিরুদ্দিন আসতে পারেনি। আমি চাকরকে বললাম চৌধুরী সাহেবকে বল যে মক্কেল এসেছেন। ঐদিন চৌধুরী সাহেব দ্বিতীয় বারের মত আমার সাথে কথা বলেন। তিনি আমার দিকে তাকালেন, দেখতে পেলেন আমার জামা-কাপড় সম্পূর্ণ ভিজা, তারপরে একটু আশ্চর্য হয়ে মন্তব্য করলেন এমন আবহাওয়ায় আমি ছাতা ছাড়া এসেছি। কাজের প্রতি আমার ভক্তি দেখে হয়ত তার মনে হয়ত দয়া হয়েছিল, চাকর ছেলেটাকে বললেন আমাকে একটা তোয়ালে দিতে, আর আমাকে বললেন যেহেতু আমি এসেছি এবং তারও মামলার জন্য কিছু জরুরী খসড়া  করার দরকার, তাই আমি শ্রুতিলিখন করতে পারি কিনা জানতে চাইলেন। আমি পজিটিভ জবাব দেবার সাথে সাথেই তিনি ডিক্টেশান দেয়া শুরু করলেন। তিনি দেখতে পেলেন আমি অনেক ভাল ও তাড়াতাড়ি শ্রুতিলিখন করতে পারি, তাছাড়া আমার হাতের লেখাও অনেক সুন্দর।  লেখা শেষ হলে তিনি আমার ইংরেজির প্রশংসা করলেন, আমার হাতের লেখাও ভাল বললেন, এবং বলতে চাইলেন কেন আমি তাকে আগেই  সেটা বলিনি। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি আমাকে ড্রয়িং রুমে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে চা-নাশতা খেতে দিলেন। সে সন্ধ্যায় আমি এতটা অভিভূত হয়েছিলাম যে কোন রকমে আবেগ দমিয়ে রেখে এ সুযোগ দেয়ার জন্য মনে মনে ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করতে লাগলাম।
পরের দিন মুনিরুদ্দিন এবং আমি দুজনেই কাজ করতে আসলাম। যখন শ্রুতিলিখনের সময় আসল, মুনিরুদ্দিন তার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল কিন্তু চৌধুরী তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “তুমি এখানে সিনিয়র, এবার সুরেনকে কিছু সুযোগ দেয়া উচিত। ” আমি বুঝতে পারলাম আমার কাজে সোলেমান রাজা চৌধুরী সন্তুষ্ট। সেদিন থেকে প্রত্যেকদিন যখনই শ্রুতিলিখনের প্রয়োজন পড়ত মুনিরুদ্দিনকে বাদ দিয়ে আমাকে সুযোগ দেয়া হত। আরেকটা ব্যাপার আমার অনুকূলে ছিল সেটা হল, প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা হবার সাথে সাথে আমি চেম্বারে গিয়ে হাজির হতাম, মুনিরুদ্দিন সেটা পারত না কারন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার কিছু মক্কেল ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই চৌধুরী আমাকে পছন্দ করতে লাগল। কিন্তু আমি তখন আরেক সমস্যায় পড়লাম। টাকা-পয়সার ব্যাপারে চৌধুরী খুব কিপটে ছিল। তিনি মাসে দু’বার সর্বোচ্চ ১০০ টাকা করে দিতেন, কখনও একবার। তখনকার দিনে আমি খুব গরীবী হালতে থাকতাম কিন্তু তারপরেও ঐ টাকা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হত না। শেষে একদিন বার কাউন্সিলে হাজিরা দেয়ার দিন স্থির হল কিন্তু আমার কাছে ঢাকা গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবার মত কোন টাকা ছিল না। আমি চৌধুরীর কাছে পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্য ৫০০ টাকা চাইলাম এবং তিনি তৎক্ষণাত সেটা দিয়ে দিলেন। আমার তখন কোন কোট বা জুতা ছিল না। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড মার্কেট থেকে একটা কোট কিনে সেটা অল্টার করে কালো রঙ করে নিলাম। দেওয়ানী মামলা পরিচালনার জন্য বিখ্যাত আইনজীবী  বি এন চৌধুরী আমার বার কাউন্সিলের ভাইভা পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তিনি জানতে চাইলেন আমি কোন বার থেকে এসেছি। আমি সিলেট বলায় তিনি বললেন, “ও সিলেট থেকে, পয়সাওয়ালাদের আদালত এবং সেখানকার ছাত্রেরাও ভাল পোষাক পরে থাকে”। তিনি আমাকে একটাই প্রশ্ন করলেন, সেটা ছিল চুরি, ডাকাতি এবং হাইজ্যাকিং এর মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে। আমি সঠিক উত্তর দেই এবং তিনি আমার উত্তরে সন্তুষ্ট হন।

পরীক্ষার পরে আমি এডভোকেট হিসেবে যোগ দেই, কিন্তু ভাগ্য আমার সহায় হয়নি। আমি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি পড়লাম। আমি আমার বাবার কাছ থেকে অর্থনৈতিকভাবে কোন সহযোগিতা পাইনি এবং আমার সিনিয়র আমাকে পর্যাপ্ত টাকা দিত না।  আমার সহকর্মীরা মহকুমার ফৌজদারী আদালতে ভাল পয়সা কামাচ্ছিল। তারা কেবল জামিনের বন্ডে সই করে টাকা পাচ্ছিল কিন্তু  চেম্বারে  আমার সিনিয়র আইনজীবীরা আমাকে জামিনের আইনজীবী হতে নিষেধ করল কারন সেটা সম্মানজনক কোন কাজ নয়। এদিকে আমি যেহেতু জামিনের বন্ডে সই করি নাই তাই আমার আয়-রোজগার ছিল খুব কম, নিজের খরচই জোগাতে পারতাম না। আমি বুঝতে পারলাম আগে আমাকে টিকে থাকতে হবে তারপরে আইনজীবী হওয়া। আমি যদি টিকেই থাকতে না পারি তাহলে কিভাবে আইনজীবী হব। আমি আরো  বুঝলাম মহকুমার আদালতে যোগ না দিলে আমি আমার জীবিকা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে পারব না। আমি লক্ষ্য করলাম আমার সব বন্ধুরা ততোদিনে  অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল, অপরদিকে আমি এখনও নিজের খাওয়া-পরার সংস্থান করতে পারছি না।
তাই একদিন সাহস সঞ্চয় করে সিনিয়রকে বলেই ফেললাম যে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যদি তিনি অনুমতি দেন তাহলে মৌলভীবাজার বার এ যোগ দিব। তিনি বললেন, জেলার আইনজীবী হিসেবে  অবশ্যই তুমি মৌলভীবাজার বার এ যোগ দিতে পার, তোমার নিজের ভবিষ্যত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবার যোগ্যতাও তোমার আছে। তিনি আরো বললেন যেহেতু আমি ইতোমধ্যে  স্থানীয় বারে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি, তাই তাঁর আর আমাকে বাধা দেবার কোন অধিকার নেই।
পরের দিন আমি মৌলভীবাজার গিয়ে সেখানকার আদালতে হাজির হলাম। সেখানে সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মুহিত চৌধুরী এবং সাইয়েদ আব্দুল মতিন আমাকে স্বাগত জানালেন, তারা দু’জনেই ছিলেন আমার সিনিয়র সোলেমান চৌধুরীর আত্মীয়। চৌধুরীর সাথে আমার সম্পর্কের কারনে তারা আমার পূর্ব পরিচিত ছিলেন। মুহিত চৌধুরী ছিলেন একজন বিখ্যাত দেওয়ানী আইনজীবী, তিনি সিলেটের আদালতে চা বাগানের মামলা নিয়ে হাজির হতেন। মফস্বলের আদালতের হাল-চাল বুঝতে আমি মুহিত চৌধুরীর পাশে বসলাম। আমি দেখলাম যখনই কোন মামলা গ্রহন করা হয় তখন আইনজীবীরা খরচের একটা লম্বা তালিকা ধরিয়ে দেয় যেমন, কাগজ, কেরানী, শমন জারি, নোটিশ, মামলা দাখিলের জন্য ৬০ থেকে ৬৫ টাকা পিওনের ফি, ৫০ থেকে ৬০ টাকা আইনজীবীর ফি ইত্যাদি। আমি এতে খুব আশ্চর্য বোধ করলাম এবং মুহিত সাহেবকে জিজ্ঞাসা না করে থাকতে পারলাম না কেন সে একেবারে ২০০ অথবা ২৫০ টাকার বিল না ধরে এভাবে ভেঙে ভেঙে বিল ধরছে। তিনি বললেন যদি একেবারে ঐ টাকা চাওয়া হয় তাহলে মক্কেল সাথে সাথে ভাগবে। তাই তারা বাধ্য হয়ে এমন ভেঙে ভেঙে বিলের তালিকা ধরে দেয়। পুরো টাকাটা কিন্তু উকিল নিজের কাছেই রাখে। জেলা এবং মহকুমা আদালতের আইন চর্চার ধরনটাই আলাদা। আমি এ ধরনের কাজ করতে পারব না তাই একেবারে হতাশ হয়ে পড়লাম, সেদিন সন্ধ্যায় বাড়ি চলে গেলাম। বাড়িতে পৌঁছে  কারো সাথে কোন কথা না বলে একটানা সাতদিন ঘুমালাম।
এক সপ্তাহ পরে মৌলভীবাজার এসে আমার বন্ধু আখতারের কাছ থেকে চিঠি পেলাম। সে জানাল তাদের না জানিয়ে আমি সিলেট ছেড়ে চলে এসেছি এবং সোলেমান চৌধুরী তাকে বলেছে আমি তাকে যেভাবে আমার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি তাতে সে একেবারে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল।  চৌধুরী আখতারকে আরো বলেছে যে তিনি নাকি আমার মধ্যে ভবিষ্যতে একজন ভাল আইনজীবী হবার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে আমি অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে ছিলাম, কিন্তু সেটা তো সাময়িক, এখন যেহেতু আমার আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিস করার লাইসেন্স আছে তাই এখন হলো টাকা কামানোর সময়। তাছাড়া, আমার যেহেতু ভাল আইনজীবী হবার সম্ভাবনা আছে তাই সিলেটে থাকাটা আমার জন্য ভাল হবে।  চিঠিটা পড়া মাত্রই আমি সিলেটে ছুটে গেলাম এবং সেদিন সন্ধ্যায় চৌধুরী সাহেবের সাথে দেখা করে আমার সিলেট ফেরত আসার কথা জানালাম। আমার সিদ্ধান্ত জেনে তার যে আনন্দ তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তিনি আমাকে বললেন, কেউ ভাল আইনজীবী হতে হলে তাকে অবশ্যই অর্থনৈতিক,শারীরিক ও মানসিক বাধা অতিক্রম করতে হবে। আমি তখন সেখানে আমার দ্বিতীয় জীবন শুরু করলাম কিন্তু আয় স্বল্পতার কারনে আমি খরচ মেটাতে পারছিলাম না। আমি যেহেতু নিম্ন আদালতে জামিন নিয়ে কাজ করি না, একজন জুনিয়র আইনজীবীর সেটাই মূল রোজগার, তাই আমার স্থানীয় কোন মক্কেল ছিল না। কোন রকমে টিকে থাকার জন্য আমি রীতিমত হিমশিম খাচ্ছিলাম।
সে সময় একদিন দেওয়ানী মামলার জন্য বিখ্যাত আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী আমাকে তার চেম্বারে যোগ দিতে বলল। সে সময় তার চেম্বারে ১২ জন সহকারী ছিল কিন্তু   প্রতিদিন এত পরিমান মামলা আসত যে তারা কূলাতে পারতেছিল না। গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী ছিলেন একজন মুক্তমনা, হাসি-খুশি, উদার মনের আইনজীবী।  তার অনেক কামাই-রোজগার ছিল আবার দু’হাতে খরচও করত। জুনিয়রদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গী ছিল অনেক উদার। আমি বুঝতে পারলাম তার চেম্বারে যোগ দিলে আমার অর্থকষ্ট দূর হবে। কিন্তু আমি সোলেমান রাজা চৌধুরীর মত মর্যাদাবান, সৎ ও নীতিবান  আইনজীবীকে এড়িয়ে চলতে পারব না। তিনি আমার প্রতি নির্ভরশীল ছিলেন, কারন সেশান মামলায় বিচার চলাকালীন সময়ে জেরা করার জন্য স্বাক্ষীদের বক্তব্য লিখে নিতে হয়, আমি সে কাজটা ভালভাবে করছিলাম। সেজন্য আমি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীকে বললাম আমি সোলেমান রাজা চৌধুরীকে ছেড়ে আসতে পারব না কারন তিনি সম্পূর্ণভাবে আমার উপর নির্ভর করেন।  তিনি যদি সোলেমান চৌধুরীর অনুমতি নিতে পারেন তাহলেই একমাত্র আমি তার সাথে যোগ দিতে পারব। গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর মতে ফৌজদারীর মামলায় ড্রাফটিং এর ঝামেলা কম কিন্তু দেওয়ানী মামলায় অনেক বেশি ড্রাফটিং করতে হয়, আমার যেহেতু ড্রাফটিং এর হাত ভাল তাই আমাকে তার চেম্বারে বেশি দরকার।
শেষ পর্যন্ত আমি সোলেমান রাজা চৌধুরীকে এড়িয়ে যেতে পারলাম না, সিদ্ধান্ত নিলাম যে তার চেম্বার ছাড়ব না। আমি প্রস্তাব দিলাম যে রাতে তার চেম্বারে কাজ করব, এদিকে ভোর ছয়টা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত গোলাম কিবরিয়ার চেম্বারে কাজ করব। এভাবে কাজ শুরু করলাম, সকালে গোলাম কিবরিয়ার শ্রুতিলিখন করতাম, কখনও অভিযোগ আবার কখনও লিখিত স্টেইটমেন্ট। প্রতিদিন সকালে দু’তিনটা ড্রাফট শেষ করতাম এবং তার গাড়িতে করে তার সাথে আদালতে যেতাম। প্রত্যেকদিন তিনি আমাকে ২০ টাকা করে দিতেন, সে সময় সেটা অনেক পরিমান টাকা ছিল। সকালে তার বাসায় খালিপেটে যেতাম তারপরে ২০ টাকা হাতে পাবার পর কোর্টের ক্যান্টিনে নাশতা করতাম। এভাবে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কাটালাম। এ সময়ের মধ্যে আমি দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলার বিষয়ে অনেক কিছু জানলাম, বিশেষ করে একই সাথে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলার মূল বিষয়গুলো শিখলাম।  ১৯৭৭ সালের শেষ দিকে এসে আমি বুঝতে পারলাম যে একজন বিখ্যাত আইনজীবী হতে হলে আমাকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে যেতে হবে।একমাত্র তাহলেই আমার পক্ষে একজন বড় আইনজীবী হবার ইচ্ছা পূর্ণ হবে।
এ সময়ে আমি তখনকার বাংলাদেশের সেরা আইনজীবী সবিতা রঞ্জন পাল (এস আর পাল) এর সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলি।  আমি যেহেতু মামলার কাগজপত্র নিয়ে প্রায় ঢাকা যেতাম, সেখানে সবিতা পালের সাথে কাজের সূত্রে সম্পর্ক ছিল, যেটা আমাকে তার সাথে পরিচয় হতে সাহায্য করেছে। আমি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার ব্যাপারে একটু ইতঃস্তত করছিলাম কারন সেখানে বড় বড় আইনজীবীরা কাজ করেন এবং ভাল অর্থনৈতিক ভিত্তি না থাকলে সেখানে আইনজীবী হিসেবে টিকে থাকাই মুশকিল। এ সময়টাতে আমি ঢাকায় অনেক সময় কাটাতাম যার ফলে গোলাম কিবরিয়া এবং সোলেমান চৌধুরীর দু’জনেরই চেম্বারে কাজের ক্ষতি হচ্ছিল।  ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাসের কোন এক সকালে সোলেমান রাজা চৌধুরী আমাকে তিরষ্কার করে বললেন, একজন আইনজীবীকে তার পেশার ব্যাপারে সিরিয়াস হতে হবে, কিন্তু একজন আইনজীবী যে কিনা টাউটের মত কখনও সিলেট আবার কখনও সুপ্রিম কোর্টের ব্রিফ নিয়ে ঢাকা যাচ্ছে  সে কখনও একজন ভাল আইনজীবী হতে পারবে না। তিনি পরামর্শ দিলেন আমি যেন হয় সিলেটে থাকি অথবা সিলেট ছেড়ে স্থায়ীভাবে ঢাকা চলে যাই। চার বছর আইন পেশায় নিজেকে নিযুক্ত রেখে  আমি শেষ পর্যন্ত আমার বাবাকে বুঝাতে পারলাম যে আইন পেশা একটি সম্মানজনক পেশা। তিনি আমার যুক্তি মেনে নিলেন আর আমার পেশাকেও মেনে নিলেন। সোলেমান রাজা চৌধুরীর সাথে কথা বলার পরেই তার মতের পরিবর্তন হয়। সোলেমান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী সুরাইয়া চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আমার বিয়ে হয়, সুরাইয়া চৌধুরী একজন সম্মানিত ভদ্রমহিলা  ছিলেন। বিয়ের পরবর্তী অনুষ্ঠানাদিও সোলেমান চৌধুরীর বাড়িতে সম্পন্ন হয়। সোলেমান চৌধুরীর মত আইনজীবীর মান-মর্যাদা দেখে আমার বাবা নিশ্চিত হন যে আইনজীবীরা মিথ্যুক নন। আমিও সোলেমান রাজা চৌধুরীর কড়া সমালোচনাকে আমলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় চলে আসার সিদ্ধান্ত নিলাম।
১৯৭৮ সালের মার্চ মাসে সবিতা পালের সাথে একটা ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসলাম। আমি তাঁর কাছে আমাকে তাঁর সহকারী হিসেবে নেবার অনুরোধ জানালাম যেটা তিনি বলা মাত্র বাতিল করে দিলেন।  আমার জন্য একজন বিখ্যাত আইনজীবীর সাথে কাজ করে ভাল একজন আইনজীবী হবার উচ্চাশা ভেঙ্গে চৌচির হয়ে গেল। আমি সুপ্রিম কোর্টে প্রাকটিস করতে এসেছি শুনে পাল বললেন সেটা একটা ভাল আইডিয়া, কিন্তু যখনই তাঁর চেম্বারে যোগ দেবার কথা বললাম তখন তিনি এমনভাবে নিতে অস্বীকার করলেন যেন আমাকে চিনেনই না। পাল ছিলেন খুবই স্পষ্টবাদী মানুষ যেটা ঠিক মনে করতেন সেটা প্রকাশ করতে দ্বিধা করতেন না।  আমার দূরবস্থা নিয়ে আমি আমার খুব ঘনিষ্ঠ মানুষ প্রয়াত এডভোকেট আব্দুল হান্নানের সাথে আলাপ করলাম। তিনি শুধু রাজস্ব বিষয়ক মামলা নিয়ে কাজ করতেন। সব কিছু শুনে তিনি বললেন, সুধীর চন্দ্র দাস (এস সি দাস) এর স্বাধীন প্রাকটিস আছে এবং সে পালের সাথে কাজ করে। হান্নান আমাকে বলল, দাস এবং পাল একই চেম্বারে বসে কাজ করে, তাই আমি যদি দাসের চেম্বারে যোগ দেই তাহলে পালের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা আমার জন্য সহজ হবে। তার প্রস্তাব আমার মনোঃপুত হল এবং আব্দুল হান্নান আমাকে এস সি দাসের সাথে পরিচয় করিয়েদিল। আমি দাসের সাথে কাজ শুরু করলাম এবং যখনই সুযোগ পেতাম পালের সাথে দেখা করতাম। ফ্রি থাকলে তিনিও অন্যান্য আইনজীবীদের সাথে গল্প-সল্প করতে পছন্দ করতেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যদি আমি কোনভাবে পালের সাথে কাজ করার সুযোগ পাই তাহলে তিনি আমাকে ঠিকই সুযোগ দিবেন।  এভাবে আমি প্রায় ছয় মাস কাটিয়ে দিলাম, এস সি দাসের চেম্বারে থেকে পালের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতাম, মাঝে মাঝে  দাসের সাথে পালের চেম্বারে যেতাম। ধীরে ধীরে পালের সাথে আমার সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হল। এস আর পাল বড় বড় মামলা পরিচালনা করতেন এবং কে এম সাইফউদ্দিন তার সাথে কাজ করতেন। সাইফউদ্দিন একটু বাচাল ধরনের ছিলেন, তাকে সিরিয়াস মনে হত না। আমি বুঝতে পারলাম আইন বিষয়ে ওনার জ্ঞানের গভীরতা নেই এবং তার হাতের লেখাও ভাল ছিল না।
একদিন বিকেলে আমি দাসের চেম্বারে বসে ছিলাম, এস আর পাল সবেমাত্র আদালত থেকে ফিরে এসেছেন। আমাকে দাসের চেম্বারে একা বসে থাকতে দেখে জানতে চাইলেন আদালতে আমার আর কোন কাজ বাকী আছে কি না। আমি জবাবে না বলায় তিনি জানতে চাইলেন আমি কি তার সাথে তার বাসায় গিয়ে একটা জরুরী রীট পিটিশনের জন্য ড্রাফট করতে পারব।  আমি যেহেতু এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম তাই সাথে সাথে তার অফার লুফে নিলাম। তিনি আমাকে তার গাড়িতে করে তার বাসায় নিয়ে গেলেন এবং পিটিশনের ডিকটেশান দিলেন।  পালের ড্রাফটিং খুবই স্বতঃস্ফূর্ত, সচল, গুরুত্বপূর্ণ এবং সংক্ষিপ্ত।  কোন রকমের বাধা ছাড়াই আমি ওনার ডিক্টেশান নিয়েছিলাম কারন বর্ণনায় তিনি ছিলেন তুখোড়। আমার ড্রাফটিং এ পাল এত সন্তুষ্ট  হয়েছেন যে সাথে সাথে আমাকে ৫০০ টাকা দিলেন। তিনি আমার প্রশংসা করলেন এবং বললেন আমি যদি তার চেম্বারে যোগ দিতাম তাহলে তার পক্ষে খুব সহজে মামলা তৈরি করা সম্ভব হত। তিনি আমাকে তার চেম্বারে যোগ দেবার অফার দিলেন কিন্তু একই সাথে বললেন যে সুধীর হয়ত বিষয়টা ভালভাবে নিবে না। মনে হল ব্যাপারটা তিনি আমার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমি তাঁকে সরাসরি বললাম প্রথমদিকে আমি আপনার সাথেই কাজ করতে চেয়েছিলাম এবং সে চিন্তা মাথায় রেখেই আমি দাসের চেম্বারে যোগ দিয়েছি যাতে আমি তার চেম্বারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি। আমার নিশ্চিত বিশ্বাস ছিল যে সুযোগ পেলে আমি আমার যোগ্যতা দিয়ে তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারব। পরদিন থেকে আমি পালের সাথে কাজ শুরু করি, যেটা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।  এর প্রধান কারন পাল ছিলেন তখনকার সময়ে সবচেয়ে বিখ্যাত আইনজীবী এবং তার খ্যাতি এমন ছিল যে, প্রায় সব বিচারক কোন রকম ইতঃস্তত না করে আইনী ব্যাপারে তার পরামর্শ গ্রহণ করত। পালের চিন্তা-ভাবনা সব সময় খুব পরিষ্কার ছিল, এবং বই না খুলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মতামত দিতে পারত। যার ফলে সব সিনিয়র আইনজীবী, কোন কোন সময় বিচারক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদেরা তার কাছে পরামর্শের জন্য আসত। এভাবে আমার পরিচয়গত সংকট কাটিয়ে আমি দেশের বিখ্যাত মানুষদের সাথে পরিচিত হবার সুযোগ পেয়েছিলাম।
এস আর  পাল কেবল একজন আইনজীবীই ছিলেন না, তিনি নিজে ছিলেন একটা প্রতিষ্ঠানের মত। তার জ্ঞানের গভীরতা, আইন এবং ভাষা বিষয়ে তার দক্ষতা দেশের নানা স্তরের মানুষের কাছে প্রশংসনীয় ছিল।  তিনি আইনী বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত বা টীকাভাষ্যের দারস্থ হতেন না, যখনই কোন আইনী প্রশ্ন উঠত শুধু ধারা দিয়ে তিনি সেটা সমাধান করতেন। তিনি আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন আইনটা ভালভাবে জান, কোন আইন একবারে না বুঝলে দুইবার, তিনবার পড় প্রয়োজনে একশত বার পড় তারপরেও আইনের মানে বুঝার চেষ্টা কর। তার মতে একবার আইনের বিষয়বস্তু বুঝতে পারলে তখন ঐ বিষয়ে আরো ভাল করে বুঝার জন্য আইনী সিদ্ধান্ত এবং টীকা-ভাষ্য ইত্যাদি পড়তে হবে। কখনই তাকে আইনী সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে হাজির হতে দেখিনি, কেবল ধারা দিয়ে তিনি যথোপযুক্ত আইনী যুক্তি দাঁড় করাতে পারতেন। তাঁর আইন এবং বিচার বিষয়ক সততা মানুষ বংশানুক্রমে মনে রাখবে। তিনি ছিলেন আমার পৃষ্ঠপোষক যিনি যে কোন মামলার তথ্য থেকে আইনী বিষয়গুলো ধরতে ও বুঝতে শিখিয়ে আমার জীবনকে পরিবর্তিত রুপে সাজিয়ে তুলতে সাহায্য করেছেন। তার অসামান্য ব্যক্তিত্ব আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল যার ফলে নিজের পেশার প্রতি আরো বেশি মনযোগী হয়েছি। তাঁর কাছ থেকে আমি জীবন ও আইন পেশার মানে বুঝেছিলাম। খুব সহজভাবে মাত্র একটি বা দু’টি উদাহরণ দিয়ে আইন ব্যাখ্যা করে মূল বিষয় ধরিয়ে দিতেন।  আমার জন্য দ্বিতীয় আরেকটা সুবিধা ছিল, যেসব মক্কেল তাকে নিতে পারত না তারা আমাকে ধরত, তারা ভাবত আমি হয়ত এস আর পালের সাথে মামলা নিয়ে আলাপ করতে পারব। আমি তখন চট্টগ্রাম এবং দেশের আরো নানা জায়গা থেকে মামলা পেতে শুরু করলাম। প্রথমদিকে আমি শুধু সিলেটের মামলা নিতাম কিন্তু পালের সাথে যোগ দেবার পরে আমি সারাদেশের প্রায় সকল বারে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পেলাম। আমার তৃতীয় যে উপকার হয়েছিল যেটা আমাকে একজন ভাল আইনজীবীতে পরিণত করেছে সেটা হল, যখনই আমি কোন মামলা নিতাম তখন পালের সাথে একাকী সেটা নিয়ে আলাপ করার জন্য অপেক্ষা করতাম। এবং তাকে ভাল মুডে পেলে মামলার যুক্তিগুলো নোট করে নিতাম। যে কোন মামলায় আইনী কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে যুক্তি দেবার অথবা যেকোন বিষয়ে রায় পেতে এটা আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করেছে। সেসব দিনে কোন বিষয়ে শুনানি পাওয়াটা এমনকী সিনিয়র  আইনজীবীদের জন্যেও কঠিন ছিল।  আমার মাপের আইনজীবীরা সিনিয়র ছাড়া একাকী আদালতে হাজির হতে সাহস করত না। এমনকী পাঁচ দশ বছরের অভিজ্ঞতা আছে এমন আইনজীবীরাও সিনিয়রদের ছাড়া আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য কোন ইস্যু উপস্থাপনের সাহস পেত না। এর মধ্যে আমি ছিলাম ব্যতিক্রম।  এটা আমাকে সাহসী করে তোলে এবং আমি আদালতে মামলার সর্বশেষ শুনানিতে সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবী যেমন, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, আশরারুল হোসেইন, বি এন চৌধুরী, হামিদুল হক চৌধুরী, আব্দুল মালেক, জুলমত আলী খান, এম এইচ খন্দকার, খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমেদ, টি এইচ খান, এমনকী খোদ এস আর পাল এদের বিরুদ্ধে যুক্তি দিতাম। বিচারকেরাও আমাকে সদয়ভাবে দেখতে শুরু করলেন কারন আইন বিষয়ে আমার জানা-শোনা  এবং মামলার খসড়া আবেদনপত্র তৈরিতে আমার দক্ষতাকে তারা ভাল চোখে দেখতেন।
এভাবে আমি তাঁর মাধ্যমে প্রখ্যাত সব বিচারক, আইনজীবী এবং সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের কাছাকাছি আসার সুযোগ পেলাম। আমি মনে করি আমার আজকের অবস্থান এবং আইনের জ্ঞানের বেশির ভাগ আমি তাঁর কাছ থেকে শিখেছি। হাইকোর্টের বেঞ্চে বিচারক হিসেবে উন্নীত হবার আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমার খুবই ভাল পসার ছিল। আমার আন্তরিকতা, সততা, আইনজীবী হিসেবে দায়বদ্ধতা, সিলেটে আমার সিনিয়রদের সমর্থন ও সহযোগিতা এবং এস আর  পালের সাথে দীর্ঘ সম্পর্কের কারনে আইনী সমাজে আমি একজন খুবই আস্থাভাজন সদস্য হিসেবে বিবেচিত হতাম। তার উপর, আইন এবং আইনশাস্ত্র বিষয়ে আমার অসামান্য আত্মনিয়োগ, মামলা পরিচালনায় নৈপুণ্য ও আইনী যুক্তি বিচার করে সেগুলো সাজিয়ে আদালতে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করা, এ বিষয়গুলো আইন পেশায় আমাকে একজন প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিত্বে পরিণত হতে সাহায্য করে।

চলবে…

ভাষান্তর: ড: নাজিম উদ্দিন  \\\\
নবযুগ ব্লগ পরিবেশিত অনুবাদ \\\\

শিশুদের জন্য নয়টি জার্মান ক্লাসিক

শিশুদের জন্য নয়টি জার্মান ক্লাসিক

কোনো দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে শিশুদের ধারণা দেয়ার অন্যতম উপায় শিশুসাহিত্য৷ আজকের ছবিঘরে থাকছে ইংরেজিতে অনুবাদ হওয়া জার্মান শিশুসাহিত্যের এমন কিছু মজার বইয়ের কথা৷




ছোট্ট ছুঁচোর কাণ্ড

ভের্নার হোলসভার্থের এই বই শুরুতে কেউ প্রকাশ করতে চায়নি৷ পরে প্রকাশক পেটার হামার ফেরলাগ ১৯৮৯ সালে বইটি প্রকাশ করেন৷ এরপর বইটি বেস্টসেলারে পরিণত হয়৷ ৩০টিরও বেশি ভাষায় বইটি অনূদিত হয়েছে৷ বিশ্বজুড়ে বিক্রি হয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি কপি৷



মৃত্যুর গল্প

আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া বইটির ইলাস্ট্রেটর ভোলফ এর্লব্রুখ ২০১৭ সালে তাঁর সৃষ্টিকর্মের জন্য মর্যাদাপূর্ণ অ্যাস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন৷ তাঁর বেশিরভাগ গল্পের মূল বিষয় অস্তিত্ববাদ৷ তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গল্প হলো ২০০৭ সালে লেখা ‘ডাক, ডেথ অ্যান্ড দ্য টিউলিপ’৷ এই গল্পে একটি হাঁসের সাথে দেখা হয় মৃত্যুর৷ শিশুদের গল্পে মৃত্যুকে এত কাব্যিকভাবে আর কেউ ফুটিয়ে তুলতে পারেননি৷



‘দ্য নেভারএন্ডিং স্টোরি’ অ্যান্ড বিয়ন্ড

‘দ্য নেভারএন্ডিং স্টোরি’ নামের সিনেমাটি যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে একই নামের বইটিও ভালো লাগার কথা৷ মিশায়েল এন্ডের এই মাস্টারপিস থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই সিনেমাটি তৈরি৷ এই সিনেমার সাফল্যের পর তাঁর অন্য বইগুলোও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়৷ টাইম বা সময় নিয়ে লেখা ‘মোমো’, এবং ‘জিম বাটন অ্যান্ড লুক দ্য ইঞ্জিন ড্রাইভার’ জার্মান শিশুদের কাছে খুব জনপ্রিয়৷



ভালো ডাইনি ও কফি মেশিনের গল্প

ছয় বছর বা ততোধিক বয়সের শিশুদের জন্য এই জনপ্রিয় বই লিখেছেন ওটফ্রিড প্রয়সলার৷ একজন ভালো ‘ডাইনি’ হতে কি পরিশ্রম করতে হয়, সে গল্প বলা হয়েছে বইটির ‘দ্য লিটল উইচ’ গল্পে৷ ‘দ্য রবার হটসেনপ্লৎস’ গল্পে এক লোক এক দাদিমার কফি গুড়া করার যন্ত্র চুরি করে৷ দুই বালক যায় সেটা উদ্ধারের সন্ধানে৷


বাঘ-ভল্লুকের সাথে স্বর্গে

‘ট্রিপ টু পানামা’ গল্পে এক ভল্লুক আর এক বাঘ খুব অলস জীবনযাপন করতো৷ তবে একদিন এক কাঠের বাক্স নদীতে ভেসে আসে৷ বাক্সের ওপর লেখা ছিল ‘পানামা’, এর ভেতর থেকে ভেসে আসছিল কলার গন্ধ৷ এই অসাধারণ গন্ধ কোন দেশ থেকে এসেছে খুঁজে বের করতে পানামার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বাঘ আর ভল্লুক৷



জার্মানির প্রিয় ডাইনোসর

‘উরমেল ফ্রম দ্য আইস’ গল্পে ডিম ফুটে বের হয় ছোট্ট এক ডাইনোসর, নাম তার উরমেল৷ ম্যাক্স ক্রুসের সবচেয়ে বিখ্যাত লেখাগুলির মধ্যে এটি একটি৷ আউগ্সবুর্গার পুপেনকিস্টে এটিকে ছোট পর্দায় রূপায়ন করেন৷ অ্যানিমেশন ফিল্ম ‘ইম্পিস আইল্যান্ড’ এই গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত৷ 


নাৎসিদের থেকে পলায়ন

১৯৭১ সালে জুডিথ কের নাৎসিদের ভয়াবহতা শিশুদের কাছে উপস্থাপনযোগ্য করে পরিবেশন করেন তাঁর ‘হোয়েন হিটলার স্টোল পিঙ্ক ব়্যাবিট’ গল্পে৷ গল্পে দেখা যায়, নাৎসিরা ক্ষমতায় আসার পর নয় বছরের শিশু আনা জার্মানি ছেড়ে পালাচ্ছে৷ গল্পে অবশ্য কোনো যুদ্ধের কথা বলা হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত আনা ও তার পরিবারকে শরণার্থী হিসেবে দিন কাটাতে হয়৷

বার্লিনে হাস্যকর অভিযান

বার্লিনে যাচ্ছেন? এরিখ ক্যাস্টনারের ‘এমিল অ্যান্ড দ্য ডিটেকটিভস’ বইটি সাথে নিয়ে নিন৷ বইটি আপনাকে নিয়ে যাবে ১৯২০ সালের বার্লিন শহরে৷ ক্যাস্টনারের আরো কিছু বই- ‘লোটি অ্যান্ড লিসা’, ‘দ্য পেরেন্ট ট্রিপ’ বইগুলোও শিশুদের বেশ পছন্দ৷


ম্যাক্স ও মরিৎস

ভিলহেল্ম বুশের বিখ্যাত বই ‘ম্যাক্স অ্যান্ড মরিৎস’ নামে জার্মানিতে অনেক স্কুলের নামকরণ করা হয়েছে৷ ১৮৬৫ সালের সময়কার এক দষ্টু বালক জুটিকে নিয়ে এই বই৷