Wednesday, October 24, 2018

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ 2nd ওয়ানডে লাইভ

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ 2nd ওয়ানডে লাইভ

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ইন্ডিয়া টস এ জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

খেলা লাইভ দেখতে ক্লিক করুন নিচের লিংকটিতে

ইন্ডিয়া vs ওয়েস্ট ইন্ডিজ 2nd ওয়ানডে লাইভ


Sunday, October 21, 2018

Monday, October 15, 2018

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়


বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে পাগলা মসজিদ। এই মসজিদের দান বাক্সে সোয়া এক কোটির বেশি টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং বিদেশী মুদ্রা দান করেছে মানুষ।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন এই মসজিদ অনেক পুরনো। এবং মানুষ বিশ্বাস করেন যে এখানে ইবাদত বন্দেগী করলে সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া রোগ-শোক নিরাময়ের জন্য প্রতিনিয়ত এখানে মানুষ দান খয়রাত করতে থাকে।
এই মসজিদে মোট ৫ টি দান বাক্স রয়েছে। প্রতি চার মাস পর পর এই দান বাক্স খোলা হয়। এবার চার মাস পর শনিবার এই দান বাক্স বা সিন্দুক গুলো খুললে দেখা যায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কারের পরিমাণ।
আগের রেকর্ড ছাপিয়ে টাকা পাওয়া গেছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১টাকা। এছাড়া রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।
এই মসজিদের কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। তাঁর কাছেই প্রশ্ন করেছিলাম এই বিপুল পরিমাণের অর্থ কীভাবে খরচ করা হয়?
তিন বলছিলেন মূলত এই অর্থ মসজিদের বিভিন্ন কাজের যে খরচ সেখানে ব্যয় করা হয়। এছাড়া অন্যান্য মসজিদে পাঠানো হয়, এতিমখানা গুলোতে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক তাফসিলুল আজিজ বলছিলেন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুললে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়।
প্রতিদিন জেলার বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ তাঁদের মনের আশা পূরণের জন্য মসজিদটির দানবাক্সগুলোতে টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন।
জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলছিলেন এই বিপুল পরিমাণ টাকা বাংলাদেশের মধ্যে শুধু মাত্র এই মসজিদের দান বাক্স থেকেই সংগ্রহ করা হয়।
তিনি আরো বলছিলেন এই অর্থ গণনার সময় মসজিদ কমিটির লোক ছাড়াও টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের জেষ্ঠ্য নির্বাহী হাকিম আবু তাহের মো. সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছিলেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
রাস্তার মাঝে হলুদ-সাদা দাগ কেন থাকে?

রাস্তার মাঝে হলুদ-সাদা দাগ কেন থাকে?


কখন হাইওয়ে রাস্তায় আবার কখনও বা আমাদের হাঁটার রাস্তাতেই দেখা যায় মাঝ বরাবর একটি সাদা দাগ চলে গেছে। অথবা হলুদ দাগও দেখা যায়। তবে হাইওয়েতে সাধারণত সাদা দাগটাই দেখা  যায়। তবে কেন এই দাগ, সেটা হয়ত আমরা অনেকেই জানিনা। 

এক কথায়, আপনি কোথায় ওভারটেক করতে পারবেন, আর কোথায় পারবেন না, তা এই লাইনেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙা ভাঙা সাদা লাইন যদি দেখেন, তার অর্থ, ওই রাস্তায় আপনি লেন বদলাতে পারেন, কিন্তু, তা সাবধানে, সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

আর রাস্তায় টানা হলুদ লাইনের অর্থ, আপনাকে ওই রাস্তায় ওভারটেক করার অনুমতি রয়েছে৷ কিন্তু, হলুদ লাইন ক্রস করে বেরোতে পারবেন না। আর যদি সেটাই দুটো হলুদ লাইন পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে যায়, তার অর্থ আপনি কোনও ভাবেই লাইনের বাইরে বেরোতে পারবেন না৷ এই তথ্য জানার পর এবার আরও সচেতন হয়ে যান৷ যাতে কোনও ভাবেই আর এই ভুলটা না হয়। 

Sunday, October 14, 2018

ক্রিকেট একটা ‘বাজে খেলা’!

ক্রিকেট একটা ‘বাজে খেলা’!

সুজি বেটস। ছবি: টুইটার

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্রিকেটকে ‘বাজে খেলা’ বললেন নিউজিল্যান্ড নারী দলের ব্যাটসম্যান সুজি বেটস



মার্কাস ট্রেসকোথিককে মনে আছে? সাবেক এই ইংলিশ ওপেনারের সৌজন্যে ক্রিকেট–বিশ্ব বেশ আগেই জেনেছে মানসিক অবসাদ ক্রিকেটারদের একটি রোগ। সেটি বেশ ভয়াবহ। ট্রেসকোথিক, জোনাথন ট্রটরা এই অবসাদে ভুগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন। তখন ব্যাপারটা ঢাকঢাক গুড়গুড় করে বাজলেও কেউ সেভাবে মুখ খোলেনি। ক্রিকেট খেলাটা মনের ওপর কতটা চাপ বিস্তার করে তা সবাই জানলেও প্রকাশ্যে আসেনি। সুজি বেটস ঠিক সেই কাজটাই করলেন। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে নিউজিল্যান্ডের এই ক্রিকেটার সোজাসাপ্টা বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিচারে ক্রিকেট সবচেয়ে বাজে খেলাগুলোর একটি।
বুধবার ছিল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। দিনটি উপজীব্য করে নিউজিল্যান্ডের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়কের সাক্ষাৎকার নিয়েছে দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম। সেই সাক্ষাৎকারে বেটসের মন্তব্য, এটা সম্ভবত সবচেয়ে বাজে খেলা—সেটি মানসিক স্বাস্থ্য বিচারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেটসের ক্যারিয়ার প্রায় এক যুগের। বোঝাই যাচ্ছে, কতটা ধকল পোহালে এমন কথা বলা যায়। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দীর্ঘদিনের সফর, সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের চাপ, মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে নানা কৌশল আর সমীকরণ—এসব ব্যাপারই মূলত ভীষণ চাপ সৃষ্টি করে থাকে ক্রিকেটারের মনে।
মেয়েদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাটসম্যান তাই মনে করেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে শারীরিক দক্ষতার চেয়ে মানসিক দক্ষতার বেশি প্রয়োজন। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে আসার পর শারীরিক দক্ষতার চেয়ে মানসিক দক্ষতাটা বেশি কাজে লাগে। অনেক কিছুর সঙ্গে লড়তে হয়, বিশেষ করে দল যখন খারাপ করছে—বলেন বেটস। মেয়েদের ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ার সঙ্গে মানসিক দক্ষতার প্রয়োজনও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। মেয়েদের ক্রিকেট এখন আরও পেশাদার, আরও বেশি ব্যস্ত সূচি—কারণ বিশ্বের নানা জায়গায় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলছে।
বেটস সাম্প্রতিক চাপটাই তুলে ধরলেন, ‘মেয়েদের ক্রিকেটে আগে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কেউ ভাবত না। খেলার জন্য তিন-চার সপ্তাহ বাইরে থাকলেও ঘরে ফিরে পরিবারকে সময় দেওয়া যেত। কিন্তু এখন সফর শেষে আপনাকে ঘরে ফিরতে হচ্ছে আবারও অনুশীলনে নামার জন্য।’

Wednesday, October 10, 2018

বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন

বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন


ঐতিহাসিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দুপুরে জনাকীর্ন আদালতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর বাকি ১১ আসামিকে নানা মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের কাশিমপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়। এর পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় অস্থায়ী আদালতের গারদে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন ও তিন শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। এ ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।
এরপরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১৮ জন, তারা হলেন- তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, এটিএম আমিন, সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, খান সাঈদ হাসান, ওবায়দুর রহমান, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল বাবু, মোহাম্মদ হানিফ, আবদুল মালেক, শওকত হোসেন, মাওলানা তাজউদ্দিন, ইকবাল হোসেন, মাওলানা আবু বকর, খলিলুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম।
ওসমান ও হিরু নৌমন্ত্রীর অনুসারী, তারা চান না চালকরা প্রশিক্ষিত হোক: ইলিয়াস কাঞ্চন

ওসমান ও হিরু নৌমন্ত্রীর অনুসারী, তারা চান না চালকরা প্রশিক্ষিত হোক: ইলিয়াস কাঞ্চন


ইলিয়াস কাঞ্চন নায়ক হিসেবে সুপরিচিত হলেও, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করছেন অনেক বছর ধরে। প্রায়ই তাকে পরিবহন মালিক- শ্রমিকদের রোষানলে পড়তে হয়। সম্প্রতি তাকে বাস টর্মিনালগুলোতে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
দেশের সব বাস টার্মিনাল থেকে আপনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। কারা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: গত রোববার ফুলবাড়িয়াতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ একটি সমাবেশ করেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, একই সংগঠনের সহ-সভাপতি ছাদেকুর রহমান হিরুসহ পরিবহন খাতের অন্যান্য নেতারা। হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশ থেকেই আমাকে অবাঞ্ছিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আপনাকে কেন অবাঞ্ছিত করা হল?
ইলিয়াস কাঞ্চন: চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমরা তাদের একদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার চিন্তা করেছিলাম। সেই কারণে অনেকগুলো টার্মিনালের পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে, সামনে ২২ অক্টোবর আমরা চালকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে চাই। তারা বলেছিলেন অনুমতির ব্যাপারে আমাকে জানাবেন। কিন্তু তা না করেই তারা আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলেন।
ওসমান আলী ও ছাদেকুর রহমান হিরু নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের অনুসারী। তারা কেউই চান না যে চালকরা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হোক। তারা যেটা চান তা হল- যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলুক। চালকরা দুর্ঘটনা ঘটাবে, এদের কোনো বিচার করা যাবে না।
কারণ পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা দেখেছেন যে, আইন নিয়ে কথাবার্তা যা কিছু হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমিই একমাত্র মুখ খুলেছি। সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আমিই বসেছি। সেই কারণে পরিবহন সেক্টরে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা আমাকে সমস্যা হিসেবে মনে করছেন।
যারা সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করছেন, তারা ভালো করেই জানেন যে- তাদের জন্যই দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোকে তারাই রাস্তাঘাটে নামিয়েছেন। তাদের ব্যবস্থাপনা অদক্ষ। চালকদের দক্ষতা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। দুর্ঘটনা রোধে নেতারা চালকদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ না করে, আইন যেন তাদের ওপর প্রয়োগ না হয় সেটিই চাইছেন। কেউ অন্যায় করবে কিন্তু শাস্তি পাবে না- পৃথিবীর কোথাও বোধহয় এমন নিয়ম নেই।
পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের এই ঘোষণা আপনাকে বিচলিত করে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: এ রকম হুমকি এটিই প্রথম নয়। স্কুলের বাচ্চাদের আন্দোলনের সময়ও ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও খুলনায় আমার ছবি পুড়িয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ২০১২ সালেও শহীদ মিনারে বিশাল সমাবেশ ডেকে আমার ছবিতে জুতার মালা পরিয়েছিল তারা। পরে ছবিতে আগুনও দিয়েছে। এতে কী আসে যায়। আমি ভীত বা বিচলিত কোনোটাই নই। আমার কাজ আমি করে যাবই।
আমি তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো কাজ করছি না। আমি কাজ করছি সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে এবং তা কিভাবে রোধ করা যায় সেজন্য। সে কারণে যেখানে আইনের কথা বলা দরকার, আমি বলছি। কারণ আইন ছাড়া তো সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।
আপনি ও আপনার পরিচালিত সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) তো বাসচালক ও সহযোগীদের সচেতনতায় কাজ করছে, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের এমন কথার কারণে কি আপনাদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে?
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমরা এসব হুমকিতে ভয় পাই না। এতে আমাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না। নিসচা আগের মতোই তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এখন পরিষদের নেতারা যদি চালকদের প্রশিক্ষিত করতে না চান, তাহলে আমাদের একটি উদ্যোগ হয়তো বাধাপ্রাপ্ত হবে। শুধু চালকদের প্রশিক্ষণটিই মুখ্য নয়, পথচারী, যাত্রী, সাধারণ মানুষ এবং সরকার সবাইকে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। চালকেরা যদি প্রশিক্ষিত হতে না চান, বিরোধিতা করেন, তাহলে আমরা বাকি জায়গাগুলোতে কাজ করব।
সম্প্রতি পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের জন্য সাত দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ইলিয়াস কাঞ্চন: আমার মনে হয়েছে, এ ব্যাপারে আমার চেয়ে বেশি চিন্তিত থাকা উচিত সরকারের। সরকারের মধ্য থেকেই তারা আমাকে অবাঞ্ছিত করেছে। সরকারের মধ্যে যারা আছেন, তাদের যে ফেডারেশন, তারাই এই কাজগুলো করছেন। সরকার এই ধরনের লোককে মন্ত্রিপরিষদে রাখে কারণ তারা সরকারকে বোঝাচ্ছে তারা নাকি দুই কোটি ভোটার, কিন্তু বাকি আট কোটি ভোটার তো বাকি থাকল। তাহলে এই আট কোটি ভোটারের কথা চিন্তা করবে সরকার, নাকি তথাকথিত দুই কোটি ভোটারের কথা ভাববে সেটি সরকারের সিদ্ধান্ত।
সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের জন্য সরকারকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। অন্যথায় ১৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘটের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আপনার কি মনে হয় আইনটি সংশোধন করা উচিত সরকারের?
ইলিয়াস কাঞ্চন: পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সবসময় তাই করে আসছে। এরা সরকারের দুর্বল মুহূর্তগুলোতে আঘাত করে করে দাবি আদায় করে নিচ্ছে। ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান ছিল। এরশাদ সরকারের পতনের সময়েও এই পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আন্দোলন করে তিন বছরের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইনটি পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। যখনই নির্বাচন ঘনিয়ে আসে তখনই পরিষদ সংশ্লিষ্টরা আন্দোলনে নেমে তাদের দাবি আদায় করে নেয়।
অথচ তারা নিজেরা দক্ষ হয় না। দুর্ঘটনা যাতে কমে, সড়কে যাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে, মানুষ যাতে স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে এমন সেবা দেওয়ার পক্ষে তাদের কোনো কার্যক্রম নেই।
রাষ্ট্রপতি যেহেতু আইনটি এখনও অনুমোদন দিয়ে সই করেননি, সেক্ষেত্রে একটি খটকা থেকেই যায়। এখন সরকার আইনটি বাস্তবায়ন করবে, না পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংশোধন করবে তা সরকারের ব্যাপার।

Tuesday, October 9, 2018

রাত জেগে কাজ করলে কী খাবেন?

রাত জেগে কাজ করলে কী খাবেন?

রাত জেগে কাজ করলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ছবি: রয়টার্স

অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন। অনেক কর্মীকে অফিসে রাতের পালায় কাজ করতে হয়। তবে শরীরের জন্য সহায়ক হলো দিনে কাজ আর রাতে ঘুম। তাই রাতের কাজ শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করে। এতে ওজন বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ জন্য যাঁরা রাত জেগে কাজ করেন, ঘুম ও খাবারের দিক দিয়ে তাঁদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদের ভাষ্য, ‘আমাদের সারা দিনের ক্যালরিকে ভাগাভাগি করতে হবে। ধরুন, একজন মানুষ যদি রাতে খাওয়ার পর তিন ঘণ্টা পার হওয়ার আগে ঘুমিয়ে পড়েন, তাহলে তাঁর খাবার হচ্ছে ছয়বার। ছয়বার তিনি যে খাবার খাচ্ছেন, যদি অনেক রাত পর্যন্ত জাগতে হয়, তাহলে সেটাকেই আট ভাগে ভাগ করতে হবে! সারা দিনের ক্যালরি ভাগ করে খেলে কিছুতেই আর ওজন বাড়বে না। তবে তাতে কমবেও না।’
এনডিটিভি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যাঁরা রাত জেগে কাজ করেন, তাঁদের জন্য আয়ুর্বেদশাস্ত্রে স্বাস্থ্যকর কিছু পরামর্শ রয়েছে।
ফাইবার ও প্রোটিন: সাধারণত দিন শুরু হয় নাশতা দিয়ে। কিন্তু যাঁরা রাতের পালায় কাজ করেন, তাঁদের দিন শুরু হয় রাতের খাবার দিয়ে। যাঁদের দিন সন্ধ্যা সাতটা বা এর পর শুরু হবে, তবে রাতের খাবার সাড়ে সাতটা বা আটটার মধ্যে সেরে নিতে পারে। যাঁরা বিকেল চারটা বা পাঁচটায় দিন শুরু করেন এবং রাত একটা বা দুইটা পর্যন্ত কাজ করেন, তাঁদেরও রাত আটটার মধ্যে খাবার খেয়ে ফেলা উচিত। খাবারের পর অনেকের ঘুম আসে। এ জন্য রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা খাওয়া ভালো। খাবারে বাদামি চালের ভাত ও সবজি, ডাল ও মুরগি রাখা যেতে পারে। রাতের খাবারে যেন যথেষ্ট প্রোটিন ও ফাইবার থাকে, তা খেয়াল রাখতে হবে। প্রোটিন খেলে পেট ভরা থাকবে এবং ঘুমের ভাব আসবে না।
ঘি: আয়ুর্বেদশাস্ত্রে বলা হয়েছে, রাত জাগলে শরীরে শুষ্ক ভাব দেখা দেয়। কাজে যাওয়ার আগে এক চামচ ঘি খেতে পারেন। এতে শরীরের শুষ্ক ভাব আসবে না এবং শরীরে ভারসাম্য ঠিক থাকবে। তবে কোলেস্টেরলের বিষয়টি যাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাঁদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
তেলজাতীয় খাবারে না: রাতে তেলযুক্ত ভাজাপোড়া কোনো খাবার খেলে হজমে সমস্যা হবে এবং ওজন বাড়বে। রাত জাগলে অস্বাস্থ্যকর খাবারে অম্লতা ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বাদাম খান: রাত জাগলে ক্ষুধা লাগতে পারে। যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন হালকা নাশতা হিসেবে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন। এ সময় আখরোট বা বাদাম খেতে পারেন। এতে ওজন বাড়বে না।
ক্যাফেইন থেকে দূরে থাকুন: অনেকেই রাতে কাজ করার সময় বেশি কফি খান। বেশি মাত্রায় কফি শরীরের জন্য ভালো নয়। যদি বেশি ঘুম আসে এবং কাজের জড়তা লাগে, তবে শরীর আর্দ্র রাখতে হবে। প্রতি আধা ঘণ্টা অন্তর পানি বা ফলের জুস খেতে পারেন।
সতেজ ফল ও সবজি: যাঁরা রাতে কাজ করেন, তাঁদের প্রচুর সতেজ ফল ও সবজি খেতে হবে। খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল ও ফলের জুস রাখতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সালাদ, শুকনো বাদাম, হোলগ্রেইন ব্রেড, সবজি ও ডিমসেদ্ধ সালাদ দারুণ উপকারী।
ঐশ্বরিয়ার নায়ক উইল স্মিথ!

ঐশ্বরিয়ার নায়ক উইল স্মিথ!

ঐশ্বরিয়ার নায়ক উইল স্মিথ!
ধরা যাক আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়েছেন উইল স্মিথ। সেটা থেকে বেরিয়ে আসা দৈত্যকে তিনটি ইচ্ছার কথা বলতে হবে তাঁকে। কী হবে সেই তিন ইচ্ছা? অন্য দুটির কথা বাদ। তৃতীয় ইচ্ছাটি হচ্ছে, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নায়ক হতে চাইবেন তিনি।
গত শনিবার নিজের এই বিশেষ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথ। তিনি বলেন, ‘বলিউড ছবির একটি নাচের দৃশ্যে অভিনয়ের ইচ্ছে আছে। ১৫ বছর আগে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। আমরা একসঙ্গে কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। তাঁর সঙ্গে একটা ছবি করার ইচ্ছে ছিল।’
সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসের লিডারশিপ সামিটে পরিচালক ফারহান আখতারের সঙ্গে একটি আলোচনা পর্বে অংশ নেন উইল স্মিথ।
কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে ৫০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন অভিনেতা উইল স্মিথ। ‘আলী’, ‘পারসুট অব হ্যাপিনেস’, ‘ইনডিপেনডেন্স ডে’, ‘আই অ্যাম লিজেন্ড’ ও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ ছবিগুলো তাঁকে দিয়েছে পরিচিতি ও খ্যাতি। বিশেষ করে ২০০১ সালে বক্সার মোহাম্মদ আলীর জীবনীভিত্তিক ছবি ‘আলী’ তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এ ছবিটি তাঁকে শিল্পীতে পরিণত করেছে। উইল স্মিথের মতে, ‘এ ছবিটি আমাকে বদলে দিয়েছে।’
মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একটি স্মৃতির কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে বসে ছবিটি দেখার সময় আমি তাঁর পেছনে ছিলাম। প্রথম এক ঘণ্টা তিনি নড়েননি। মনে করেছিলাম, ছবিটা বুঝি তাঁর পছন্দ হয়নি। একটি দৃশ্য ছিল, আমি চিৎকার করে তাঁর স্ত্রীকে বলছি, “আমি কি উন্মাদ?” তিনি পেছনে ঘুরে আমাকে বলেছিলেন, “দারুণ একটা কাজ দেখিয়েছেন!”’
অভিনয় শুরু করার আগে হিপ-হপ গান করতেন উইল স্মিথ। অভিনেতা হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না তাঁর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংগীত থেকে চলচ্চিত্রে চলে আসাটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। রাজস্ব বিভাগ আমার সবকিছু কেড়ে নেয়, আমাকে চলে যেতে হয় লস অ্যাঞ্জেলেসে। ফিলাডেলফিয়া থেকে আমি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। অ্যালবামটি ফ্লপ হয়, লাখ লাখ ডলার ক্ষতির মুখে পড়ি।’
উইল স্মিথ জানান, শৈশব ভীষণ দুঃসহ ছিল তাঁর। তিনি চাননি তাঁর সন্তানকেও সে রকম একটি জীবনের মুখোমুখি হতে হোক। তিনি বলেন, ‘যেমনটি চেয়েছিলাম, আমার শৈশব সে রকম ছিল না। বেড়ে উঠতে আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। সে জন্যই নিজের ছেলের ক্ষেত্রে আমার চাওয়াটা ছিল ভিন্ন। আমাদের সব সময়ের প্রত্যাশা ছিল একটা সুখী পরিবার।’
ছেলে জ্যাডেন অভিনীত ২০১০ সালের ছবি ‘দ্য কারাতে কিড’ নিয়ে উইল স্মিথ গর্বিত। তিনি মনে করেন, জীবনে তাঁর যত অর্জন, এসবের পেছনে রয়েছে তাঁর পরিবার। ডেকান ক্রনিকল

Monday, October 8, 2018

সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করেছে মায়ানমার!

সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করেছে মায়ানমার!

সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করেছে মায়ানমার!

সেন্টমার্টিনের পর এবার সালমান মুক্তাদিরকে নিজেদের বলে দাবি করলো মায়ানমার। গতকাল মায়ানমারের সরকারি ওয়েবসাইটে সালমান মুক্তাদিরের ছবি দিয়ে বলা হয়, সালমান মুক্তাদির একজন রাখাইন। সে গতবছর রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের সাথে লুকিয়ে বাংলাদেশ ঘুরতে যায়। তারপর আর বাংলাদেশে ফেরত আসেনি। এ ব্যপারে সালমানের সাথে যোগাযোগ করলে, সালমান লজ্জায় জেসিয়ার কোলে লুটিয়ে পড়েন …
সালমান আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনো এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে সালমানকে মায়ানমারে পাঠানোর ব্যাপারে জনগনকে বেশ খুশি হতে দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উদ্ভাবন!

পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উদ্ভাবন!

পলিথিন থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উদ্ভাবক তৌহিদুল ইসলাম।
প্রকৃতির জন্য পলিথিন একটি বড় ধরনের হুমকি, কারণ তা মাটিতে মেশে না। সেই অপচনশীল পরিত্যক্ত পলিথিনকে পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার অভূতপূর্ব এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন জামালপুরের তৌহিদুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের গবেষণায় পলিথিন ধ্বংসের পাশাপাশি তা থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি উৎপাদনের কৌশল আবিষ্কার করে রীতিমতো সাড়া ফেলেছেন তিনি।
তৌহিদুলের বানানো বিশেষ একটি চেম্বারে পলিথিন ঢুকিয়ে উচ্চমাত্রার তাপে গলানো হয়। পরে সেটি থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে আলাদা করা হয় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও ছাপার কালি। পলিথিন ধ্বংসের বিশেষ এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের স্বীকৃতিস্বরূপ এরই মধ্যে তৌহিদুল সরকার এটুআই প্রকল্প আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন দেশসেরা উদ্ভাবকের খেতাব। জাতীয় পরিবেশ পদক ছাড়াও মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন স্বর্ণপদক।

তৌহিদুল চান তাঁর এই উদ্ভাবন দেশের কাজে লাগুক। নিজের উদ্ভাবন সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে দেশকে জ্বালানিসমৃদ্ধ ও দূষণমুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
তৌহিদুল বলেন, ‘পলিথিন পুড়লে সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়, যা পরিবেশের জন্য বড় একটা ক্ষতি। আর এটাকে মাটিতে পুঁতে দিলেও পচে না। এখান থেকে আমার পলিথিনটাকে পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার একটি প্রক্রিয়া আবিষ্কারের চেষ্টা করি।’ নিজের উদ্ভাবনের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে এভাবেই বলেন তৌহিদুল।
নিজের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তরুণ এই উদ্ভাবক বলেন, ‘আমার এই মেশিনটাকে যদি আমি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে হয়তো বাংলাদেশে পলিথিনের যে একটি হুমকি, সেই হুমকি থেকে মুক্ত হয়ে আমরা পলিথিনটাকে একটা সম্পদে পরিণত করতে পারব।’
তৌহিদুলের অসাধারণ এ উদ্ভাবনে খুশি তাঁর জেলা জামালপুরের মানুষ। তাঁরা আশা করছেন, তৌহিদুলের এ উদ্ভাবন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে সরকার সহায়তার হাত বাড়াবেন।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের জামালপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমরা জামালপুরবাসী গর্বিত, আনন্দিত। আমরা সরকারের কাছে দাবি করব, যাতে এ প্রজেক্ট—পলিথিন থেকে তেল উৎপাদন, এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাহলে দেশবাসী উপকৃত হবে।’  
এদিকে এর মাঝেই তৌহিদুলের নতুন এই উদ্ভাবন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মির্জা আজম ও প্রধানমন্ত্রীর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এটা আরো কীভাবে বড় করা যায়, কীভাবে জামালপুরের সব পলিথিনকে এখানে এনে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে, পরিবেশসম্মতভাবে এটাকে ডিসপোজাল করা যায়, সে ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তাসহ দেশব্যাপী এর সুফল ছড়িয়ে দিতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’