Showing posts with label Motivational. Show all posts
Showing posts with label Motivational. Show all posts

Friday, September 14, 2018

কানাডার পাঠ্য বইয়ে ড. ইউনূস

কানাডার পাঠ্য বইয়ে ড. ইউনূস



শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের কাহিনী এখন কানাডার সপ্তম শ্রেণির জাতীয় পাঠ্যক্রমের অংশ। কানাডার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রদের একটি পাঠ্যবই হচ্ছে ‘কমপ্লিট কানাডিয়ান কারিক্যুলাম গ্রেড ৭’ যেখানে ছাত্ররা গণিত, ইংরেজি ভাষা, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও ভূগোল বিষয়ে জ্ঞানলাভ করে থাকে। প্রফেসর ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের কাহিনী ইংরেজি পাঠ্যবইতে সন্নিবেশিত হয়েছে। 

গতকাল ইউনূস সেন্টারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পাঠ্যবইতে লিখিত কাহিনীতে তুলে ধরা হয়েছে- ‘কীভাবে প্রফেসর ইউনূস বাংলাদেশের একটি দরিদ্র গ্রামে যান এবং সেখানে এক মহিলার সাক্ষাৎ পান যে বাঁশের মোড়া তৈরি করতো, কিন্তু বাঁশের উচ্চ দাম ও গ্রামের মহাজনদের উচ্চ সুদের কারণে আর্থিকভাবে হিমশিম খাচ্ছিল। আর তখনই প্রফেসর ইউনূস তাকে ও তার মতো আরো অনেককে নিজের পকেট থেকে ২৭ মার্কিন ডলার ঋণ দেন যাতে তারা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হবার উদ্দেশ্যে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করতে পারে।’

Image result for কানাডার পাঠ্য বইয়ে ড. ইউনূস

এই কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা কীভাবে জন্মলাভ করলো এবং এটা কীভাবে বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে সে সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষা দেয়া। গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে সমাজের দারিদ্র্য দূর করতে এবং একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে পারে- এই কাহিনীতে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে।

ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যবইতেও একই ধরনের কাহিনী ও প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা থেকে নতুন প্রজন্ম ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক ব্যবসা সম্পর্কে এবং একটি দেশের উন্নয়নে এগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করতে পারে।   

Thursday, September 13, 2018

ফেসবুক-অ্যামাজনকে পেছনে ফেলে ৮২০ কোটি টাকার মালিক পাঠাও

ফেসবুক-অ্যামাজনকে পেছনে ফেলে ৮২০ কোটি টাকার মালিক পাঠাও




যানজটের শহর হিসেবে ঢাকা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকার গড় ট্রাফিকের গতি ঘন্টায় ৭ কিলোমিটার। আর যানজটের এ নগরীতে স্মার্টফোন ভিত্তিক পরিবহন অ্যাপ ‘পাঠাও’ চালু করে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছেন যাতায়াত ব্যবস্থায়। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছে ‘পাঠাও’।
আর এ প্রতিষ্ঠানটির উত্থান যেন জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্প। একেবারে শুন্য থেকে শুরু হওয়া পাঠাও এখন ১০০ মিলিয়ন USD বা বাংলাদেশী টাকায় ৮২০ কোটি টাকার মালিক।

যেখানে তিন বছরের মধ্যে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ, আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাফ বেজুসও এমন সাফল্য পায়নি।

বাংলাদেশের তিনজন যুবকের হাত ধরে ই-কমার্স ব্যবসায় ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে পাঠাও।

৮২০ কোটি টাকার রাইড শেয়ারিং কোম্পানী পাঠাও যখন শুরু করেছিল তখন তাদের কোন মুলধন ছিলনা। তারা সব কিছু করেছিল সততা এবং নীতিগত ভাবে। আর এ খাতে বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এই তিন উদ্যোগ তাদের মধ্যে একজন হলেন হুসাইন এম ইলিয়াস যিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে সবে মাত্র এমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। অপর আরেকজন হলেন সিফাত আদনান তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। আরেকজন হলেন কানাডায় পড়াশোনা করা কিশোয়ার হাশমী।

চাকরি পেছনে না ছুটে নিজে থেকে কিছু একটা করার কথা ভাবলেন এই তরুণরা। আর তাই ২০১৫ সালে তিনজন বন্ধু মিলে পাঠাও কোম্পানী শুরু করে বাই-সাইকেলে পন্য ডেলিভারী দিবার জন্য।

তিনজন মিলে শুরু করলেন দেশীয় ডেভেলপার দিয়ে অ্যাপস তৈরির কাজ। অ্যাপস তৈরির পর রাজধানীতে প্রথমবারের মতো স্মার্ট ফোনভিত্তিক মোটরবাইক সার্ভিস ‘পাঠাও’ চালু করেন তারা। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে এই সেবা চালু করা হয়।

তারা মোটামুটি ভালো সফলতা পেতে শুরু করলো। তাদের সফলতা দেখে বিভিন্ন বিদেশী ইনভেস্টররা তাদের ব্যবসায় ইনভেস্ট করলো। যার ফলে আমাদের সবার পরিচিত মোটর বাইক রাইড শেয়ারিং কোম্পানী পাঠাও আজ ১০০ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশী টাকায় ৮২০ কোটি টাকার মালিক।

একদম শূন্য অবস্থান থেকে শুরু করা এই তিন তরুণ বর্তমানে ১০০ মিলিয়ন USD বা বাংলাদেশি টাকায় ৮২০ কোটি টাকার মালিক! বাংলাদেশের তরুণদের জন্য যা অনন্য রেকর্ড। সম্পদ বলতে কেবল তিনটি বাই সাইকেল নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিল তারা।

আর এবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিদেশের মাটিতে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নেপালে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করবে পাঠাও।
আলিবাবা'র জ্যাক মা সম্পর্কে পাঁচটি তথ্য

আলিবাবা'র জ্যাক মা সম্পর্কে পাঁচটি তথ্য



ই-কমার্স সাম্রাজ্য আলিবাবার প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে যাচ্ছেন জ্যাক মা।
চীনের অন্যতম এই বিত্তশালী জ্যাক মা গত সোমবার ১০ই সেপ্টেম্বর যখন ৫৫ বছরে পা দিয়েছেন, তখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর পদ ছেড়ে দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে জনহিতকর কাজে মনোনিবেশ করার কথা বলেছেন।
তাঁর এই ঘোষণা সারাবিশ্বে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তাঁকে নিয়ে অনেক তথ্যও এখন আলোচনায় আসছে। এরমাধ্যে জ্যাক মা সম্পর্কে পাঁচটি উল্লেখযোগ্য তথ্য নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
১) জ্যাক মা ছিলেন একজন ইংরেজী শিক্ষক
তিনি চীনের পূর্বাংশে হাংঝৌ শহরে দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৯৬৪সালের ১০ই সেপ্টেম্বর।
স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
গরিব পরিবারে জন্ম নেয়া জ্যাক মা'র শিক্ষা গ্রহণই ছিল তাঁর সামনে এগুনোর একমাত্র উপায়।
হাইস্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তির জন্য তিনি পর পর দুইবার পরিক্ষা দিয়েও পাশ করতে পারেন নি।
শেষপর্যন্ত তিনি হাংঝৌ টিচার্স ইন্সিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন।
সেখান থেকে ১৯৮৮ স্নাতক পাশ
 করার পর চাকরির খোঁজে নেমেছিলেন জ্যাক মা।
কিন্তু ৩০টি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন।
যে প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁকে চাকরি দেয়নি, তার মধ্যে কেএফসিও রয়েছে।
অবশেষে স্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে চাকরি পেয়েছিলেন।
৩৩ বছর বয়সে তিনি প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার করেন।
তিনি অনলাইনে প্রথম যে শব্দটি লিখে সার্চ দিয়েছিলেন, তা ছিলো 'বিয়ার'।
কিন্তু সেই সার্চের ফলাফলে চীনা কোনো বিয়ারের নাম ছিল না। সেটি তাঁকে অবাক করে দেয়।
খন তিনি চীনের জন্য ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন।
এরআগে কম্পিউটার সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না।
২) তিনি এখন অনেক ধনী
তিনি তাঁর দেশ চীনে ধনীদের তালিকায় তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছেন।
ফোর্বস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেই তালিকায় তিনি ২০তম স্থানে রয়েছেন।
তিনি ৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত সম্পদের অধিকারি।
আলিবাবার বর্তমান বাজার মূল্য ৪০ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
প্রতিষ্ঠানটিতে জ্যাক মা'র ৯ শতাংশ শেয়ার আছে।
২০১৪ সালে আলিবাবা শেয়ার বাজারে যাত্রা শুরু করে।
প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূল্য ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি ডলার।
৩) তিনি দিতে চান অনেক অনেক...
তিনি দশ বছর আগে আলিবাবার নির্বাহী পদ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী এগুতে থাকেন।
আলিবাবা যেহেতু দাঁড়িয়ে গেছে, সেকারণে তিনি এখন সময় দিতে জনহিতকর কাজে।
বিশেষ করে শিক্ষাখাতে তাঁর আগ্রহ বেশি।
তিনি যে জ্যাক মা ফাউন্ডেশন করেছেন।
সেই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি এখন চীনের গ্রামপর্যায়ে শিক্ষার জন্য কাজ করবেন।
তিনি কাজ করে যেতে চান ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফরমে মানুষের কল্যাণে।
তাঁর নাম ছিল মা ইউয়ান।কিন্তু তিনি বিখ্যাত হয়েছেন জ্যাক মা নামে।
এই নামের গল্পটাও ভিন্ন ধরণের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ১৯৭২ সালে হাংঝৌ এলাকা সফর করেছিলেন< তখন থেকে সেটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।
সে সময় পর্যটকরা ঐ এলাকায় ভিড় করতো।
কিশোর বয়সে জ্যাক মা শহরের বড় হোটেলটিতে গিয়ে পর্যটকদের শহর ঘুরে দেখানোর প্রস্তাব দিতেন।
আর বিনিময়ে সেই কিশোর ইংরেজী শিখতো।
সেই কিশোর বয়সেই একজন পর্যটক তাঁর নাম জ্যাক।
তখন থেকেই তিনি মা ইউয়ান এর পরিবর্তে জ্যাক মা নামে পরিচিত হতে চান।
সেই নামেই তিনি তাঁর কর্ম দিয়ে বিখ্যাত হয়ে যান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জ্যাক মা'র বৈঠকের পর তাঁরা দু'জন ছবির পোজ দেন।

৪) ট্রাম্প জ্যাক মাকে পছন্দ করেন বলেই মনে হয়
গত বছরের জানুয়ারিতে জ্যাক মা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করেছিলেন।
সেই বৈঠকের পর মি: ট্রাম্প বলেছিলেন, "জ্যাক মা পৃথিবীতে বিশাল বিশাল উদ্যোক্তা"।
তখন জ্যাক মাও ট্রাম্পের অনেক প্রশংসা করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ হওয়ার কথা নয়।
৫) জ্যাক মা নিজেকে আলোচনায় রাখতে পছন্দ করেন
আলিবাবা চালাতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাতে সফলও হয়েছেন।
প্রতিবছরই এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বেশ ঘটা করে পালন করা হয়।
তিনি নিজেও সেসব অনুষ্ঠানে পুরোদস্তর বিনোদনদাতা হিসেবে পারফরমেন্স করে আলোচনার সৃষ্টি করেন।
আলিবাবার ২০ হাজার কর্মির সামনে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে তিনি পারফরমেন্স করার জন্য পাঙ্ক রকারের মতো সাজ নিয়েছিলেন।